শিক্ষক-কর্মচারীদের মানবেতর জীবন যাপন

জয়পুরহাটের চকগোপাল উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৫ বছরেও এমপিও ভুক্ত হয়নি

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৫, ২৩:৫৫

স্কুল এমপিওভুক্ত হলে দু:খ কষ্ট থাকবে না মনের মধ্যে এই বাসনা নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা বিগত ১৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করলেও এমপিও ভুক্তির সোনার হরিনের দেখা মেলেনি আজও। শুধু মানবেতর জীবন যাপনই নয়, ঈদের আনন্দও তাদের স্পর্শ করতে পারেনি।

জয়পুরহাট শহরতলীর গ্রাম চকগোপাল সহ আশ-পাশের ৭/৮ গ্রামে কোন স্কুল না থাকায় এলাকার বিশিষ্ট্য সমাজ সেবক আছিয়া খাতুন ২০০১ সালে একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন। ওই এলাকার লোকজন নিম্নমধ্যবিত্ত হওয়ার কারনে তাদের ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়ার একমাত্র ভরসা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। চকগোপাল ছাড়াও আউস গাড়া, হাতিল গাড়িয়াকান্ত, বুড়াবুড়ি আঁড়া, রহমতপুর, হাতিল বুলুপাড়া, সাহেবপাড়া, কোচঁপাড়া, তাতিঁপাড়ার প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী বর্তমানে লেখাপড়া করছে। পরীক্ষার ফলাফল ও ভাল।  বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারী পাঠদানের অনুমতি পেলেও একাডেমীক স্বীকৃতি পায় ২০১৪ সালের ৭ জুলাই।
প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘ফাইলের সঙ্গে ফুয়েল’ না দিলে কাজ  হয় না। সে কারনেই স্বকৃতি লাভ করতে ১৪ বছর লাগলো। শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারায় ইতোমধ্যে তিনজন শিক্ষক চাকরী ছেড়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আবু মহী উদ্দিন ও সফের আলী বলেন, অত্র এলাকার অসহায় ছেলে-মেয়েদের বিদ্যা লাভের একমাত্র প্রতিষ্ঠান এটি। দ্রুত এমপিওভুক্তির দাবী জানান তাঁরা।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট্য চিকিৎসক ডা: মজিবর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টিকে রক্ষা করা না গেলে এলাকার অনেক ছেলে-মেয়ে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে। ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী খাদিজা আকতার ও ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী সুম্মা আকতার জানান, পারিবারিক অভাব অনটনের কারনে শহরের স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয় না।
এ ব্যাপারে জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু বলেন, এমপিও ভুক্তির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্ঠা করবো। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতীয়করনের ঘোষণায় প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকারি হয়েছে গত বছর।