উখিয়ার রেজু খালের ভাঙন আতঙ্কে দুই গ্রামের মানুষ

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৫, ০১:১২

উখিয়ার খরস্রোতা জোয়ার-ভাটার রেজু খাল এখন উত্তাল। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রেজু খালের দুই পাড়ে বসবাসরত পরিবারের লোকজন আতঙ্কে দিন যাপন করে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড রেজু মোহনার কিছু অংশে সি সি ব্লক স্থাপন করলেও বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত থাকায় এসব মানুষের দিন কাটছে উদ্বেগ উত্কণ্ঠায়। গ্রামবাসীর অভিযোগ- স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র নির্বিচারে বালি উত্তোলনের ফলে রেজু খালের ভাঙন তীব্রতর হয়ে উঠেছে। ফলে প্রবল বর্ষায় বড়ুয়া পাড়া ও চরপাড়া গ্রাম দুইটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওয়ালিদং পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সৃষ্ট এ রেজু খালটি নাইক্ষ্যংছড়ি, রাজাপালং হয়ে রত্নাপালং-এর উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জালিয়াপালং-এর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এ খালটির শাখা প্রশাখা বিদ্যমান  থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাগর ঘেঁষা উপকূলীয় জনপদ জালিয়াপালং ইউনিয়নের বৃহত্তর জনগণ। বঙ্গোপসাগরের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় এ খালে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হয়ে থাকে। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি ও জোয়ার-ভাটার তীব্রতায় রেজু খালের বিভিন্ন অংশে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০১২ সালে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে রেজু খালের মোহনায় জালিয়াপালং-এর কিছু অংশ ও হলদিয়াপালং ইউনিয়নের কিছু অংশ জুড়ে রেজু খালের উভয় অংশে সি সি ব্লক স্থাপন করলেও বৃহত্তর এলাকাজুড়ে ভাঙন রোধে কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকায় নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে শত শত একর ফসলী জমি ও ঘরবাড়ি, বসত ভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বড়ুয়া পাড়া ও চরপাড়া এলাকার আরো কিছু অংশ ভাঙনরোধে সি সি ব্লক স্থাপনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে কবে নাগাদ এ কাজ শুরু হয় তা আমার জানা নেই।
 
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকর্মী চরপাড়া ও বড়ুয়াপাড়া এলাকা থেকে বালি উত্তোলনের ফলে খালের ভাঙন আরো তীব্রতর হয়ে উঠেছে। চরপাড়া গ্রামের আলী হোছেন, নজির আহমদ ও আয়েশা খাতুন নামের একাধিক লোকজন জানান, চরপাড়া থেকে বালি উত্তোলন বন্ধ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করা হয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চরপাড়া এলাকায় বালি উত্তোলন নিষিদ্ধ করেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা স্বত্ত্বেও চিহ্নিত ব্যক্তিরা নির্বিচারে বালি উত্তোলন করে তা বাজারজাত করছে। রেজু খালের ভাঙন থেকে বড়ুয়া পাড়া রক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের থামানো যাচ্ছে না।
 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল বিশ্বাস জানান, চরপাড়া এলাকা থেকে কেউ অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ ও ভূমি অফিসকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। ইতিপূর্বে অভিযুক্ত বালি উত্তোলনকারীকে সতর্ক করা হয়েছে।