তরুণ ও তাদের সংগঠনের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, জ্ঞানের আদান-প্রদান, নতুন বিষয়ে গবেষণামূলক ধারণা দিতে ‘গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ’-এর উদ্বোধন করল একশনএইড বাংলাদেশ। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এই প্ল্যাটফর্মটি একটি উদ্ভাবনী স্থান হিসেবে কাজ করবে। রবিবার একশনএইড বাংলাদেশের কার্যালয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তরুণরা যোগ দেন। এই তরুণর গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণে অংশ নেবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের যেকোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় এ দেশের যুবাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, আছে এবং থাকবে। একশনএইড বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তরুণ-বান্ধব। আমরা তরুণদের ক্ষমতায়নে কাজ করছি। তারা যাতে দরিদ্রতা, অবিচার, অন্যায়কে রুখে দাড়াতে পারে, সেজন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের যোগ্য করে তোলা হবে গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।
গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম প্রান্তিক ও দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং তাদের অধিকারের জন্য কাজ করবে। এর মাধ্যমে তরুণরা নিজ সম্প্রদায়ের মৌলিক সামাজিক পরিবর্তন আনতে পথ-প্রদর্শকের মতো কাজ করতে পারবে। এ ছাড়া, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য জাতীয় প্রচারাভিযানগুলোতেও অংশ গ্রহণ করতে পারবে তরুণরা। নেতৃত্ব, শাসন, প্রচারণা ও সক্রিয়তার জন্য তরুণদের প্রশিক্ষণ দেবে গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম। তরুণদের বিভিন্ন বিষয়ে সমসাময়িক জ্ঞান দেয়া, দক্ষতা বৃদ্ধিতেও কাজ করবে এই প্ল্যাটফর্ম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মের ম্যানেজার লিয়া গাফনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে অনুপ্রাণিত তরুণদের স্বাগত জানাই। তারা এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে একসঙ্গে সমাজের পরিবর্তন করবে। এই প্ল্যাটফর্ম হবে বাংলাদেশের তরুণ ও তাদের সংগঠনের অভিজ্ঞতা দেয়া নেয়ার জায়গা।
এরই মধ্যে একশনএইড বিশ্বের নয়টি দেশে তরুণদের ক্ষমতায়নে গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করছে। বাংলাদেশ এই প্ল্যাটফর্মের দশম দেশ। তরুণদের ক্ষমতায়নে অন্যদেশগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের তরুণদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মের প্রথম প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়। যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১৯ তরুণ অংশ নেবেন। এই তরুণরা সক্রিয়ভাবে তাদের সমাজে কাজ করছে।
নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আসা তরুণ সামসুদ্দোহা সাদি বলেন, ‘আমি আশা করি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমার সমকক্ষ অন্যদের সঙ্গে ভাল বোঝাপড়া তৈরি করতে পারব। এর মাধ্যমে আমার এলাকার বাল্য বিবাহ বন্ধে কাজ করব।’
