জীবন ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে হাজার হাজার যাত্রী। ঈদে ঘরে ফেরা মানুষগুলো কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। দেশের দক্ষিণাঞ্চল মাওয়া, কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে এই দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে। সেখানে প্রশাসন সবকিছু দেখেশুনেও নির্বিকার সময় পার করছেন।
মাওয়া ও কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে প্রতিদিন হাজার হাজার ঢাকাগামী মানুষ ভিড় করছে। তারা গাদাগাদি করে বিআইডব্লিউটিএ’র ফেরিতে করে কর্মস্থল ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হচ্ছে। যাত্রীবাহী ফেরিঘাটে ভেড়ার পর যাত্রীরা ফেরি থেকে লাফিয়ে ট্রলার কিংবা ডিঙি নৌকাযোগে পাড়ে ভিড়ছে। এভাবে পারাপার হতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নীরবে এ বিষয়গুলো প্রত্যক্ষ করলেও কার্যত কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। এই পরম সত্যটাকে মানুষকে বুঝাতে আমরা চেষ্টা করেছি। কিন্তু মানুষ এই সত্যটিকে কিছুতেই বুঝতে চাচ্ছে না। ফেরিঘাটে কর্মরত কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই না করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর ঘাট দিয়ে চর মইনুট ঘাট হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারো যাত্রী পদ্মা নদী পাড়ি দিলেও তাদের জীবনের নিরাপত্তায় কোন ভূমিকাই রাখছে না উপজেলা প্রশাসন। জানা যায়, প্রায় চারপাশে পদ্মানদী বেষ্টিত এই উপজেলার গোপালপুর ঘাটটি দিয়ে ফরিদপুর জেলার কয়েকটি উপজেলার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে আসছে। উপজেলার এই জনগুরুত্বপূর্ণ ঘাট দিয়ে নদীপথে শীত মৌসুমে যাতায়াতে তেমন কোন ঝুঁকি না থাকলেও বর্ষা মৌসুমে ঢেউয়ের উন্মত্ততার ভিতর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন উত্তাল পদ্মানদী পাড়ি দিচ্ছে বিভিন্ন উপজেলার হাজারো যাত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলা ১৪২২ সনে গোপালপুর ও চর মইনুট ঘাটটির আন্ত: জেলা ঘাট হিসাবে আইটি ভ্যাটসহ মোট ইজারা মূল্য ধরা হয় ২ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। উক্ত নৌ রুট দিয়ে আসা ট্রলার ও স্পিডবোট যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার জনগুরত্বপূর্ণ এই ঘাট দুটির ইজারা থেকে প্রতিবছর সরকারি কোষাগারে লাখ লাখ টাকা জমা হলেও যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তায় প্রশাসনিক কোন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় ট্রলার ও স্পিড বোট মালিকরা নৌযানগুলোতে জীবন রক্ষাকারী কোন সরঞ্জাম ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে করছে যাত্রী পারাপার। উপজেলার গুরত্বপূর্ণ এই ঘাটটি দিয়ে গত কয়েকদিন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে নিজ কর্মস্থলে ফিরছে হাজারো মানুষ। গতকাল ২৬ জুলাই রবিবার গোপালপুর ঘাটে গিয়ে দেখা যায় ঝড়ো হাওয়ায় উত্তাল ঢেউ উপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সকল বয়সী মানুষ। তাই প্রশাসনের কাছে যাত্রী ও উপজেলার সচেতন মহলের জোর দাবি, যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রতিটি ট্রলার ও স্পিডবোটে জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম রাখা বাধ্যতামূলক করা হোক।
যাত্রী নিরাপত্তায় আদৌ কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, এই আন্ত:জেলা ঘাট মালিকরা বিভাগীয় কমিশনার অফিসে ঘাটের সম্পূর্ণ ইজারা মূল্য পরিশোধ না করায় এদের বিরুদ্ধে লিখিত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাচ্ছে না। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে খুব শিগগিরই নৌযান মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে আমাদের মুন্সিগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, গতকাল রবিবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌ-রুটে পদ্মা নদীতে যাতায়াতকারী লঞ্চ, স্পিডবোট, ট্রলার চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
