মাহবুব আলম
অতীত বেঁচে থাকে ইতিহাসের পাতায়। তাই অতীত সম্পর্কে জানার আগ্রহ সবার। কারণ অতীতের শিক্ষাই বর্তমানকে আলোকিত করে। এজন্যই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস পাঠের চাহিদা এখনও আছে। প্রতি বছরই শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এই বিষয়ে ভর্তি হয়। তাইতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ ‘ইতিহাস’। বিভাগটি প্রতি শিক্ষা বর্ষের শেষের দিকে এসে ৪ বছরের অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞান মাঠপর্যায়ে যাচাই করতে মাঠ গবেষণায় পাঠায়। তারই ধারাবাহিকতায় ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদেরকে পাঠানো হয়েছে ‘চায়ের রাজ্য সিলেটে’। তাদেরকে গবেষণা করতে হবে ‘সিলেটের সুফি ঐতিহ্য ও মণিপুরীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা’ নিয়ে। এই গবেষণা কর্মে বিভাগটির সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ আবু তোয়াব শাকির, আনিসা পারভিন জলি এবং সহকারী অধ্যাপক মাসুদা পারভীন ও সুলতানা আক্তার নেতৃত্ব দিয়েছেন। শিক্ষকদের নেতৃত্বে ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে বাসে রওনা দেয় শিক্ষার্থীরা। এরপর কমলাপুর থেকে ট্রেনযোগে হযরত শাহজালালের পুণ্য ভূমির দিকে যাত্রা শুরু হয়। ট্রেনটি পাহাড়, চায়ের বাগান ও লেবু বাগানের কোল ঘেঁষে বিকেলে এসে পৌঁছাই ৩৬০ আওলিয়ার দেশে। হযরত শাহজালাল (র) এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু হয় মাঠ গবেষণা কার্যক্রম। তারপর মাজারের নান্দনিক স্থাপনা দেখা, বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণসহ নানা জনের সাক্ষাত্কার ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করা শুরু করে শিক্ষার্থীরা।
পরের দিন ভোর সাড়ে ৭টায় শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে পরে পুণ্য ভূমিতে অবস্থিত অন্য সুফিদের মাজার পর্যবেক্ষণে। হযরত শাহ পরান (র) এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম। তারপর একে একে হযরত শাহ্ সুন্দর (র), হযরত শাহ্ গাজী বোরহান উদ্দিন (র), হযরত মানিক পীর (র) ও সৈয়দ চাষনী পীর (র) এর মাজার জিয়ারত ও পর্যবেক্ষণ করে তথ্য সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীরা। এর মধ্য দিয়ে “সিলেটের সুফি ঐতিহ্য” সম্পর্কে মাঠ গবেষণা কর্মের পরিসমাপ্তি ঘটে।
পরেরদিন “মণিপুরীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা” সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে রাতে প্রস্তুতি সভা করা হয়। প্রস্তুতি সভার আলোকে ভোর ৬ টায় বাসযোগে শিক্ষার্থীরা রওনা হয় মণিপুরীদের অঞ্চল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে। সেখানে পৌঁছে প্রথমে মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্সে স্থানীয় তাঁত শ্রমিকদের সাথে কথা বলে শিক্ষার্থীরা। তাঁত শ্রমিকদের সাথে শিক্ষার্থীদের আলাপচারীতায় উঠে আসে তাঁত শ্রমিকদের জীবন ব্যবস্থা। এরপর স্থানীয় একটি সনাতন মন্দিরে শিক্ষার্থীরা উপভোগ করে মণিপুরী নৃত্য ও গান। তারপরেই শিক্ষার্থীরা চলে যায় মণিপুরীদের গ্রামে। সেখানে মুণিপুরী সম্প্রদায়ের মানুষদের সাথে কথা বলে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জানার চেষ্টা করে- তাদের বর্তমান অবস্থা, পরিবেশ ও জীবনযাপনের চিত্র।
