ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই খাত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। এ খাতের মাধ্যমে যত সহজে ও অল্প পুঁজি বিনিয়োগ বেশি কর্মসংস্থার সৃষ্টি করা যায় অন্য কোনো খাতে তা অসম্ভব। তাই এসএমইকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও নারী উদ্যোক্তাদের এ খাতে অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে। এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সার্বিক সহযোগিতার লক্ষ্যে গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আইএমএসএমই অব বাংলাদেশ নামের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট ও বিভিন্ন এসএমই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় নতুন এ সংগঠন যাত্রা শুরু করলো। আইএমএসএমই অব ইন্ডিয়ার আদলে ১৭ সদস্যের নতুন এ সংগঠনের উদ্যোক্তা কমিটির সভাপতি হয়েছেন এসএমই উদ্যোক্তা সৈয়দ আহমদ কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সাফিয়া শ্যামা। উপদেষ্টা হিসেবে আছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগের সাবেক মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ চৌধুরী। এসএমই উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষণ, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ঋণ প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন সহযোগিতায় এ সংগঠন কাজ করবে। ঋণ সহায়তার লক্ষ্যে অনুষ্ঠান থেকে আইএমএসএমই অব বাংলাদেশের সাথে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ও আইএফআইসি ব্যাংক এবং লংকা বাংলা ফিন্যান্সের মধ্যে একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, এসএমই হলো অর্থনীতির প্রাণ। এটা বিকশিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা নীতি সহায়তা দিয়ে আসছে। এখন উদ্যোক্তা, অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও চেম্বারগুলোকে এক সাথে কাজ করে এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা ও নতুন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন বলেন, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে প্রচুর লোকজন দেশের বাইরে গিয়ে নানা কষ্টের শিকার হচ্ছে। এ খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তিনি বলেন, এখানকার এসএমই খাতের উন্নয়নে ইইউ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। সামনের দিনে সহায়তা আরও বাড়ানো হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরন বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের জন্য এসএমই খাতের উন্নয়ন জরুরি। দু’দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এ খাতকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে আইএমএসই অব ইন্ডিয়া ও আইএমএসএমই অব বাংলাদেশ পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে এ খাতকে এগিয়ে নিতে পারে।
আইএমএসএমই অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান রাজিব চাওলা বলেন, ব্যবসার সবচেয়ে বড় বিষয় বিশ্বস্ততা। আর এজন্য বেশি গুরুত্ব দিতে হবে পণ্যের মানের ওপর। এরপর দক্ষতার সাথে উত্পাদন বাড়াতে হবে। একই সাথে পণ্য বাজারজাতের জন্য প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি নতুন বাজার ধরতে হবে। আর এজন্য দরকার আর্থিক শিক্ষা ও কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে জোর দেয়া।
বিআইবিএমের মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হোসেন খালেদ, ভারতের ন্যাশনাল স্মল স্কেল ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ, এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কে এম হাবিব উল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইএমএসএমই অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা সুকোমল সিংহ চৌধুরী।