নেয়ামত উল্লাহ
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাবেক মিডফিল্ডার মিরোনা খাতুন বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দল ঢাকা সিটি এফসির প্রধান কোচ হয়ে দেশের ফুটবলের ইতিহাস রচনা করেছেন। প্রথম নারী হিসেবে বনে গেছেন কোনো পুরুষ ফুটবল দলের কোচ। পুরুষ দলের নারী কোচের উদাহরণ বহির্বিশ্বেই বেশ বিরল। সেখানে বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় মিরোনার এমন অর্জন নিঃসন্দেহে অসামান্য। ফিফার আইন অনুযায়ী চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ দলের কোচ হবার জন্য প্রয়োজন ছিলো ‘বি’ ক্যাটাগরির লাইসেন্স, যা মিরোনার থাকলেও দলটির কোচ নোমান নান্নুর ছিলো না। ফলে মিরোনাকেই দলের প্রধান কোচ হিসেবে দেখায় দলটি। তবে কাগজে কলমে দলটির প্রধান কোচ হলেও কার্যত সহকারী হিসেবে দলের সঙ্গে আছেন মিরোনা।
বাগেরহাটের মেয়ে মিরোনা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফুটবলার হিসেবে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াঙ্গনে পা রাখেন বাগেরহাট জেলা দলের হয়ে। ফুটবল খেলার জন্য যথার্থ উচ্চতা ছিলো না তার। তবে মিরোনার প্রবল ইচ্ছাশক্তির সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তার খাটো গড়ন। যার প্রতিদান হিসেবে আসে জাতীয় দলের ডাক।
২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের মাঝমাঠে। তিন বছর আগে অবসর গ্রহণ করার পর ফুটবল থেকে কিছু সময়ের জন্য দূরে ছিলেন তিনি। তবে খেলাধুলায় ঠিকই পদচারণা ছিলো তার। বিজেএমসি ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে অ্যাথলেটিক্সে অংশগ্রহণ করে ১৩টি পদকও জিতেছিলেন জাতীয় দলের সাবেক এই মিডফিল্ডার। ২৬ বছর বয়সী মিরোনার কোচিংয়ে হাতেখড়ি হয়েছিলো জাতীয় দলের খেলোয়াড় থাকাকালীন সময়েই। জাতীয় দলে নিয়মিত খেলার সময় পুরুষ-নারী উভয়ের জন্যেই কোচিং বিষয়ক কর্মশালা শুরু হয়। সেখানেই কোচিংয়ের দীক্ষা গ্রহণ করেন মিরোনা। ফুটবলারদের শারীরিক গড়ন অন্যদের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন হয়। নারীদের ক্ষেত্রে এ পার্থক্যটা বেশ চোখে পড়ে। জানা যায় এ নিয়ে মিরোনাকে সমাজের বক্রোক্তিও শুনতে হয়েছিলো অনেক। তবে সমাজের এ রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই মিরোনা ছুটে চলেছেন নিজের লক্ষ্যপানে। মিরোনার সামনে সুযোগ ছিলো পদচারণা গন্ডি দেশ ছেড়ে বিদেশে উন্নীত করার। ভারতের একটি রাজ্যদলের কোচ হিসেবে কাজ করার প্রস্তাবও পেয়েছিলেন বাগেরহাটের এই মেয়ে। কিন্তু সেসবকে প্রস্তাবকে ফিরিয়ে দিয়ে দেশের একটি দলের জন্য কাজ করাকেই এগিয়ে রাখেন তিনি।
