যেখানেই জনদুর্ভোগ সেখানেই লাইভে এই ব্যারিস্টার

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ১৯:১৫

>> মামুনুর রশিদ রাজিব

 

কিছুদিন ধরে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক তরুণ যুবকের বেশ কিছু লাইভভিডিও ভাইরাল হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে। যেখানে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন অনিয়ম অসংগতির বিষয়গুলো ফেসবুক লাইভ এসে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরছেন এবং সেই সঙ্গে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের। কখনো তিনি রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা বিদ্যুতের খুটি নিয়ে লাইভে আসছেন তুলে ধরছেন এর ভয়াবহতার বিষয়গুলো, কখনো আবার লাইভে আসছেন রাস্তাঘাট, ফ্লাইওভার কিংবা নদীর ওপর কোটি কোটি টাকার ব্রিজের ওপর আলোহীন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্ট অথবা ফুটপাতের ওপর নির্মাণ সামগ্রী রেখে জনসাধারণের চলার পথে ব্যাঘাত ঘটানো বিষয়গুলো নিয়ে। আর সেই ভিডিওগুলো যেই না ভাইরাল হতে শুরু করে দেশের হাজার হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারীর ওয়ালে ওয়ালে। ঠিক তখনই যেন দেবদূতের মতো মানুষের অন্তরালে এসে সমস্যাগুলোর সমাধান করে দিয়ে যাচ্ছে। অর্থাত্ কয়েক ঘণ্টা পার হতে না হতেই রাস্তার ওপর থেকে বিদ্যুতের খুটি সরে যাচ্ছে রাস্তার পাশে, ফুটপাতের ওপর বছরের পর বছর পরে থাকা ইট, বালি উধাও হয়ে যাচ্ছে রাতের অন্ধকারে, ব্রিজ ফ্লাইওভারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্টগুলো জ্বলজ্বল করে উঠছে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে। আর যিনি নিজের থেকে ফেসবুকে লাইভে এসে এই মহত্ কাজটি করে চলেছেন অক্লান্তভাবে, তিনি হলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

ঢাকা হাইকোর্টের আইনজীবী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা হবিগঞ্জের চুনারঘাট উপজেলায়। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ করে ব্যারিস্টারি পড়তে পারি জমান সুদূর লন্ডনে। লন্ডনে থাকা অবস্থায় হঠাত্ তার বাবা মারা যাওয়ার খবর শুনেও যখন সামান্য অর্থের অভাবে দেশে ফিরতে পারলেন না, পারলেন না বাবাকে শেষবারের মতো একটু চোখ মেলে দেখতে। সেদিন নিজেকে খুব অসহায় লাগছিল সুমনের। সেদিনের সেই শোক সুমনকে যতটা ভেঙে দিয়েছিল ঠিক ততটাই ভীত গড়তে সহায়তা করেছিল মানুষের হয়ে মানবতার তরে নিজেকে বিলিয়ে দিতে। একসময় তিনি দেশে ফিরে ঢাকা হাইকোর্টে যোগদান করেন একজন আইনজীবী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে। সেই সঙ্গে চলতে থাকে সমাজের মানুষের হয়ে কাজ করার প্রবল ইচ্ছার বাস্তবায়ন। যার শ্রেষ্ঠ বাহন হিসেবে বেছে নেন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের লাইভ অপশনটাকে। যার মাধ্যমে তিনি চারপাশে কিংবা পথে ঘাটে ঘটে চলা অনিয়ম এবং অসংগতিগুলোকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে এনে সমাধান করে চলেছেন।

কথা হয় এমন মহত্ কাজের উদ্যোগক্তা ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর আমার প্রথম যে কাজটা হয়েছিল হবিগঞ্জের চুনুরঘাট উপজেলার লালচান গ্রামের নদীর ওপর দিয়ে কাঠের সেতু তৈরি করা। আর এতে ব্যয় হয় আশি থেকে নব্বই হাজার টাকা। যার সবটাই বহন করি আমার ব্যক্তিগত উপার্জন থেকে। কিন্তু কষ্ট লাগত, যখন মানুষ এর পিছনেও অসত্ কারণ কিংবা অসত্ উদ্দেশ্য খুঁজে বেড়াত। কেউ তো আবার ভেবেই বসতেন, এই কাজের উদ্দেশ্য নাকি ব্যক্তিগত ফায়দা লোটা। কিন্তু, বিভিন্ন এলাকায় একে একে যখন ২১টা কাঠের ব্রিজ করে ফেলি, তখন যেন মানুষের মনে সন্দেহটা দূর হতে থাকল এবং সেই সঙ্গে কর্তৃপক্ষেরও সাড়া মিলতে থাকল ক্রমান্বয়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাজের সার্থকতা তো তখনই খুঁজে পাই, যখন দেখি আমার এই লাইভ ভিডিওর কাজ দেখে কেউ আমার মতো লাইভে এসে তার এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন। অর্থাত্ যখন দেখি ব্যারিস্টার সুমন দেশের আর দশটা সচেতন যুবকের মাঝে জেগে উঠতে শুরু করেছে তখনই আমার সবচেয়ে বড় সফলতা খুঁজে পাই। আসলে আমরা যদি সবাই সবার জায়গা থেকে এই দেশটাকে নিয়ে ভাবি তাহলে খুব দ্রুতই এই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা সম্ভব। আর তাই তো আমি লাইভে এসে সব সময় একটা কথা বলি, চলুন, সবাই মিলে দেশটাকে বদলে দিই।’