অণুগল্প

সত্য ঘটনা অবলম্বনে অসংখ্য গল্পের একটি

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ১৯:২৮

 

সত্য ঘটনা অবলম্বনে অসংখ্য গল্পের একটিতে সুরাইয়া এগারো বছরে পৌঁছানোর কিছুকাল পরে মায়ের সঙ্গে সদ্য মা হওয়া বুবুকে দেখতে এসেই পরদিন চোখের কোলে কাল দাগ নিয়ে ঘ্যানঘ্যান শুরু করে ‘বাড়ি ফিরে চল মা’ বলে আর দাদাজানের ন্যাওটা এই ছোট নাতিনের আহ্ল্লাদে ‘গা জ্বলে’ বলে সদ্য নানি হওয়া মা-র মুখ ঝামটা মিলিয়ে যায় দিনের আলোয়, রাত নামলেই সুরাইয়াকে বিছানায় একা রেখে কেঁদে ওঠা শিশুটিকে ধরতে ছুটে যাওয়া মার আবডালে আরো কালো হতে থাকে চোখের চারপাশ, সঙ্গে ঘ্যানঘ্যান ঘ্যানঘ্যান, সঙ্গে ধমকানি, যার শেষ মেলে মাস দুই পর দাদাজানের কাছে ফিরে যাওয়া সুরাইয়ার আগের মতো আর কেন বকবক নেই মুখে জাতীয় প্রশ্ন এক ভর দুপুর ভাসিয়ে দেয় বমিতে, আর সেই আওয়াজে ঘুম ভেঙে জেগে ওঠা সমাজের মুখোমুখি যত খতিয়ান, তাতে বড় নাতিনের সংসার টু বি কন্টিনিউ থাকার অপরিহার্যতার চেয়েও মোটা দাগে জ্বলে ওঠে দুলামিয়ার সম্মান, যার পেছনে কি না কাতারে কাতারে দাঁড়ায়ে সিজদায় নত হন সমাজের বড় বড় মানুষেরা, আহা সেই সম্মানের ভার দাদাজান কাঁধে নিয়ে হাত ধরেন সুরাইয়ার, ভর সন্ধ্যায় বেড়াতে নিয়ে যান তিন পহরের বিল দেখাতে, আর খুব ভালোভাবেই দেখবে বলে একেবারে ঠিক মাঝখানে গিয়ে, ডিঙিতে টলটলায়মান আসমানের নিচে দাদাজান পানির নিচে চেপে ধরা সুরাইয়ার মাথার উপর ভাসিয়ে তোলেন টিকে যাওয়া সমাজের মান, তখন সুরাইয়া দেখে এগারো বছরে পৌঁছানোর কিছুকাল পরেই কী সুন্দর লেজ গজিয়ে হয়ে গেছে এক মত্স্যকুমারী সে, যার মাথার উপর দোলে নীল চাঁদ, একবার এপার, আরেকবার ওপার, যেন পেণ্ডুলাম একখান!