চ্যালেঞ্জে আমাদের বুটিক শিল্প

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৫, ০২:১১

বিদেশে তৈরি পোশাক এবং কাপড় অবাধ প্রবেশের কারণে আমাদের দেশের বিকাশমান বুটিক শিল্পের অগ্রযাত্রা থমকে গেছে। দেশের বেশ কিছু প্রতিভাবান ফ্যাশন ডিজাইনারের মহত্ উদ্যোগের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ বুটিক শিল্পের সামগ্রীর ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। শুধু তাই নয় দেশের বুটিক শিল্পের উত্পাদিত পোশাকসহ বিভিন্ন সামগ্রী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি শুরু করে। বুটিক শিল্পের সম্পৃক্ত হয় অসংখ্য উদ্যোক্তা এবং শ্রমিক। বুটিক শিল্পের ক্রম জনপ্রিয়তার কারণে এটি শিল্পের রূপ ধারণ করে। রাজধানী ঢাকা ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে অসংখ্য বুঠিক শিল্প প্রতিষ্ঠান। বুটিক শিল্পের উপর ভিত্তি করে অনেকে আয়ের পথ খুঁজে পায়। দেশে উত্পাদিত সুতি, সিল্ক, মসলিন, বেনারসী, কাতান, তাঁত, জামদানী, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, টি-শার্ট, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছিল। বুটিক শিল্পের সামগ্রীর মধ্যে চামড়া, বেত, কাঠের সামগ্রীও রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ভারত, পাকিস্তান এবং চীনের তৈরি পোশাক এবং কাপড় দেশে যেভাবে অবাধে আসছে এতে করে বুটিক শিল্পের উপর নেমে আসে দুর্দিন। দেশে আসা এ কাপড়গুলো তুলনামূলক সস্তা এবং দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় ক্রেতারা এসব কাপড়ের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। দেশের বুটিক শিল্পের সামগ্রীর উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। দেশের বুটিক শিল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমাদের আলাপ হয় চট্টগ্রামের বুটিক শিল্প প্রতিষ্ঠান চারু চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিমুল খালেদের সাথে। তিনি বলেন- আমাদের দেশের বুটিক শিল্প এখন ডুবতে বসেছে, আমাদের বুটিক শিল্প এখন বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন। দেশে বিদেশি কাপড় অবাধে প্রবেশের কারণে বুটিক শিল্পের উপর ধস নেমে আসে। দেশের বুটিক শিল্পের অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তিত আছি। কারণ এ শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত আছে লাখ লাখ লোক। বুটিক শিল্প উদ্যোক্তারা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে রেখেছেন। বুটিক শিল্প উদ্যোক্তারা লোকসান গুনছেন। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের দেশের বুটিক শিল্পের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়বে। দেশের বুটিক শিল্পের স্বার্থে বিদেশি কাপড়ের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। দেশের বুটিক শিল্পকে প্রকৃত শিল্পের মর্যাদা দিয়ে এর উন্নয়নে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। শিল্প উদ্যোক্তাদেরকে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। বুটিক শিল্পের মান উন্নয়নে শ্রমিকদেরকে উন্নত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। দেশীয় কাপড় উত্পাদনে কাঁচামালের সহজলভ্যতা করতে হবে। বুটিক শিল্পে উত্পাদিত সামগ্রী দেশে-বিদেশে বাজারজাতকরণে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ সহযোগিতা দিতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে বুটিক শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আমরা আশা করব এব্যাপারে সরকারের উচ্চমহল থেকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।