শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, বাংলাদেশ আর্থিকভাবে গরিব হতে পারে কিন্তু মেধার দিক থেকে গরিব নয়। আমাদের তরুণ প্রজন্ম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখছে।
শনিবার সকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়েপ)-এর 'পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি'র সেরা সংগঠকগণের উদ্দীপনা পুরস্কার বিরতণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশকে আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য আমাদের তরুনদের বিশ্বমানের শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। বিশ্বমানের উপযোগী করে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। এজন্য তরুণ প্রজন্মকে প্রচুর বই পড়তেই হবে।
মন্ত্রী বলেন, শুধু পাঠ্যপুস্তক পড়ে বিশ্বমানের যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি ঋদ্ধজনদের জ্ঞানের দীপ্তিতে ভরা অন্যান্য বইও পড়তে হবে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন, সেকায়েপ প্রকল্প পরিচালক ড. মো: মাহামুদ-উল-হক এবং বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য বাখেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক ও 'পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি'র কোর টিম লিডার শরিফ মো: মাসুদ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, কর্মসূচির ডেপুটি টিম লিডার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন।
সেকায়েপ প্রকল্পের অধীনে মাঠ পর্যায়ে 'পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি' বাস্তবায়ন করছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বইপড়া কর্মসূচি বাস্তবায়নে উৎসাহিত করার জন্য প্রত্যেক উপজেলার ১০ শতাংশ সংগঠককে “সেরাসংগঠক উদ্দীপনা পুরস্কার” প্রদান করা হয়। ২০১৪ সালে সেরাসংগঠক নির্বাচিত হয়েছেন ৬৭২ জন। আজ ঢাকা বিভাগের ১২১ জন সংগঠককে সেরাসংগঠক উদ্দীপনা পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে বাকি ৬টি বিভাগের ৫৫১ জন সেরাসংগঠকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীরা পাঠ্য বইয়ের বাইরে অন্যান্য বইসমূহ পড়ছে। ছাত্র-ছাত্রীদের এই বইপড়া অভ্যাস আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সারাদেশে বইপড়া আন্দোলনকে জনপ্রিয় করে তুলেছে আর সেকায়েপ প্রকল্প এই বই পড়া কর্মসূচিকে সম্প্রসারণ করেছে। ভবিষ্যতে এই কর্মসূচিকে সারাদেশে সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
সেকায়েপ প্রকল্প পরিচালক ড. মো: মাহামুদ-উল-হক পুরস্কার প্রাপ্ত সেরাসংগঠকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পাঠ্যবই ছাড়া অন্যান্য বই পড়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের যে অনীহা ছিল, পাঠ্যাভাস উন্নয়ন কর্মসূচির সংগঠকদের ইতিবাচক ভূমিকার ফলে তাদের সেই মনোভাব এখন পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বইপড়া এখন একটি প্রিয় শখে রূপান্তরিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, আর্থিক ভাবে সচ্ছল হ্ওয়ার জন্য পাঠ্য বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা আছে। কিন্তু প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য সৃজনশীল বইসমূহ পড়তে হবে।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষার মধ্যে সংস্কৃতি থাকতে হবে। সংস্কৃতির আলো ছাড়া শিক্ষা অর্থহীন।
