স্পোর্টস রিপোর্টার
প্রথম টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারলেও দ্বিতীয় ইনিংসের লড়াই থেকেই অনুপ্রেরণা খুঁজছে বাংলাদেশ। দু’দিন বাদে অনুষ্ঠিতব্য ওয়েলিংটন টেস্টকে সামনে রেখে ওপেনার সাদমান জানালেন, নিজেদের সহজাত ক্রিকেটেই মনোযোগ দিচ্ছে সফরকারীরা।
গতকাল সকালেই হ্যামিল্টন থেকে ওয়েলিংটনে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এখন ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এর আগে ওয়ানডেতেও ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ। আগামী আট মার্চ ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। তৃতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৬ মার্চ, ক্রাইস্ট চার্চের হ্যাগলি ওভালে।
বাংলাদশ দল মনে করছে ওয়েলিংটনের উইকেটের আচরণ খানিকটা ভিন্ন হতে পারে। সাদমান ইসলাম বলেন, ‘এখানে যে উইকেটে খেলেছি, হয়তো আগামী ম্যাচে উইকেট পরিবর্তন থাকবে। অবশ্যই আমরা মানসিকভাবে নিজেরা প্রস্তুতি নিয়েছি। আর যেমন উইকেটে আমরা খেলেছি তেমন উইকেটই আশা করছি এখানে। আমরা ভালোই প্রস্তুত, ইনশাল্লাহ ভালো করতে পারবো।
চলতি নিউজিল্যান্ড সফরে এখন অবধি বাংলাদেশ দলের প্রাপ্তির খাতাটা শূন্যই বলা যায়। ব্যতিক্রম কেবল প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংস। সেখানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সৌম্য সরকার পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই উইকেটে কিভাবে ব্যাট চালাতে হয়। এবার সেই দ্বিতীয় ইনিংস থেকেই আত্মবিশ্বাস খুঁজছে বাংলাদেশ।
সাদমান বলেন, ‘হ্যামিল্টন টেস্ট বেশ আত্মবিশ্বাস দেবে। চিন্তা করেছি যেমনটা আমি খেলি এবং আমি যেমন থাকি, আমার যে পরিকল্পনা থাকে তেমনটাই আমি খেলবো। আর পরবর্তী ম্যাচে যদি থিতু হতে পারি তাহলে চেষ্টা করবো ইনিংস আরও বড় করার।’
সেই লড়াইয়ের আত্মবিশ্বাস থেকেই এবার দ্বিতীয় টেস্টে নিজেদের ফিরে পেতে মরিয়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। এই প্রসঙ্গে সাদমান ইসলাম বলেন, ‘ গত ম্যাচে যেভাবে ভালো কামব্যাক করেছি (দ্বিতীয় ইনিংসে) ইনশাল্লাহ চেষ্টা করবো পরের ম্যাচে সেটা ধরে রাখতে। ইনশাল্লাহ আমাদের সবাই ভালো খেলবে এবং ভালো কিছু করতে পারবো।’
সাদমানের এটাই ছিল প্রথম বিদেশ সফর। সেটাও আবার নিউজিল্যান্ড, যেখানে বিশ্বের সেরা সব ব্যাটসম্যানরাও প্রায়ই নাকানি চুবানি খায়। সেদিক থেকে সাদমান দুই ইনিংসে বড় কিছু করতে না পারলেও নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন।
নিজের নিউজিল্যান্ড অভিজ্ঞতা নিয়ে সাদমান বলেন, ‘আমি নিল ওয়াগনারের মুখোমুখি হলাম এই প্রথম। বুঝতে পারলাম যে তাকে কিভাবে ফেস করতে হয়। সেটি নিজের জন্যও ভালো, আর ড্রেসিংরুমে যারা থাকে তারাও দেখতে পারবে যে একজন ব্যাটসম্যান কিভাবে সেখানে খেলছে। এটি আসলে পরের ব্যাটসম্যানের জন্য সহজ হবে সামলানোর ক্ষেত্রে।’
নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বাতাস। তবে, এই বিষয়টাকে যত বেশি মনে না রাখা যায়, ততই নিজেদের জন্য মঙ্গলজনক বলে মনে করছেন সাদমান। তিনি বলেন, ‘বাতাস তো থাকবেই। এটা ন্যাচারাল বিষয়। এটি আসলে সমস্যা হবে না আমার মনে হয়। যদি আমরা নরম্যালি খেলি, তাহলেই হলো। বাতাসের ব্যাপারটি যদি মাথায় নেই তাহলেই সমস্যা হবে। তবে আমার মনে হয় এটি মাথায় না নেয়াটাই ভালো হবে।’
