শিগগিরই আসছে নতুন নীতিমালা
স্পোর্টস রিপোর্টার
ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো বটেই - আফগানিস্তান, কানাডা বা হংকংয়ের মত খবশক্তির ক্রিকেট দেশগুলোরও এখন নিজস্ব ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আছে। এগুলোতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ক্রিকেটাররা এসে খেলার সুযোগ পান। যত দিন যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বের ওপর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রভাব ততই বাড়ছে।
এমন অবস্থায় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দৌরাত্ম্য নিয়ে নতুন করে নিজেদের চিন্তার কথা জানিয়েছে। এখন এই জাতীয় টি-টোয়েন্টি লিগগুলোকে ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যাপারে একটু কড়াও হয়েছে সংস্থাটি।
এজন্য গেল ২০১৮ সালের জুনে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত টি-টোয়েন্টি লিগগুলোকে আদৌ ছাড়পত্র দেওয়া যায় কি না সেই ব্যাপারে এই ওয়াকিং কমিটির সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে ধরা হচ্ছে। এই কমিটিতে আছেন কেভিন রবার্টস (অস্ট্রেলিয়া), রাহুল জোহরি (ভারত), থাবাঙ মোরোয়ে (দক্ষিণ আফ্রিকা), জনি গ্রেভ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), টনি ব্রায়ান (স্কটল্যান্ড) ও টনি আইরিশ (ফিকা)।
এই কমিটি নিয়ে আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডস বলেন, ‘ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগগুলো যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে সেই দুশ্চিন্তা থেকেই প্রথম আমরা এই কমিটিটা শুরু করেছিলাম। টি-টোয়েন্টি লিগগুলো আন্তর্জাতিক সূচি মেলাতে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এই টুর্নামেন্টগুলোতে বৈশ্বিক অনেক ক্রিকেটারই খেলে থাকেন।’
ডেভ রিচার্ডসন জানালেন, এই কমিটি মূলতফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মান নিয়ন্ত্রণের কাজ করে থাকে। তিনি বলেন, ‘বাজে অবকাঠামোর একটা লিগ যে টিকে থাকতে পারবে না, এটা যে ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর - এটা ধরিয়ে দেওয়াটাই এই কমিটির কাজ। কোনো মতে একটা লিগ আয়োজন করলে সেখানে নীতি-নৈতিকতারও কোনো বালাই থাকে না। সেখানে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকজনিত সমস্যাও দেখা যায়। এটা ক্রিকেটের বিশ্বায়নে একটা বাজে প্রভাব ফেলে।’
আইসিসির প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, শিগগিরই এই ব্যাপারে নতুন নীতিমালা প্রনয়নেও হাত দিচ্ছে আইসিসি। তিনি বলেন, ‘এই কমিটির সহায়তায় আমরা গত ক’মাসে বেশ কয়েকটি নীতিমালা নির্ধারণ করেছি। এর ফলে স্বল্প মেয়াদে আয়োজিত এই ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর মান নিয়ন্ত্রণে কাজে দিবে। এটা আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্যও রক্ষাকবচের মত কাজ করবে।’
একটি আদর্শ টি-টোয়েন্টি লিগ কেমন হওয়া উচিত্ - এই প্রসঙ্গে ডেভিড রিচার্ডসন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রসঙ্গ টানলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই ভাগ্যবান যে এর মধ্যেও বিশ্বজুড়ে দারুণ কিছু টি-টোয়েন্টি লিগ হচ্ছে। এর মধ্যে সবার ওপরেই থাকবে আইপিএল। আমাদের ওয়াকিং কমিটি আইপিএলকেই আদর্শ কাঠামো বলে মনে করছে। আমরা চাইছি, বিশ্বের অন্য টি-টোয়েন্টি লিগগুলোরও জন্য একটা নূন্যতম মান বজায় রাখে।’
