বিদ্যা অমৃত খান

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৫, ১৫:৪০
 
আর সব পরিবারের মতোই আমাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নামাজ পড়ে আসার পর সবাই মিলে একসাথে নাস্তা সারি। যেহেতু ঈদের সারাদিন ঝির ঝির বৃষ্টি ছিল তাই ভাতিজা-ভাতিজিদের নিয়ে দিনের বেশির ভাগ সময় বাসায় ছিলাম। অন্যবারের চেয়ে এবারের ঈদের অনেক পার্থক্য রয়েছে। কাজের ভিড়ে ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমি জীবনের অনেকটা সময় অতিক্রম করে এসেছি। আগে ঈদি পেতাম, আর এখন ঈদি দিতে হয়। এটাই পার্থক্য। তবে ঈদি পাওয়া আর ঈদি দেওয়ার আনন্দের অনুভূতির কোনো পার্থক্য নেই। ছেলেবেলার ঈদ আর বড়বেলার ঈদের মধ্যে যোগসূত্র পাই অনেক। ঈদ এলেই মনে পড়ে যায়, সেই ছোটবেলার কথা। যখন বাবার সাথে ঈদের আগের রাতে দাদীর, পুরান ঢাকার নবাব পরিবারের রেসিপি অনুযায়ী সেমাই, দুধ সেমাই, চালের জর্দা এবং অন্যান্য  সুস্বাদু মিষ্টান্ন তৈরিতে সহযোগিতা করতাম। ওই কাজগুলো শুরুই করতাম রাত বারোটার পরে আর শেষ হতে হতে দুটো বেজে যেত। বাবার পরে আমাকেই সেই কাজটি করতে হয় এবং আমি করে আনন্দও পাই। এবার তো আমার সহযোগী হিসেবে আমার ভাইয়ের ৬ বছরের ছেলে উমেরকে পাই। যার অতি উত্সাহ ও আগ্রহ দেখে আমার ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। আমি তাকে নিয়ে অতি আনন্দে সবগুলো পদই রান্না করি এই আশায় যে, আমার পরবর্তীকালে সেও এ রকম ধারাটি ধরে রাখতে পারে। তাছাড়া মুরুব্বি, চাচা, ফুফু, খালাদের সাথে আগে অর্থাত্ ছোটকালে যেভাবে দেখা সাক্ষাত্ করতাম এখনো সবার সাথে সেই ধারাটি বজায় রেখেছি। কাজে ফিরতে ভালোই লাগে, এবারের ঈদে আমার কারখানার সাথে মিল রেখে অফিসেও দীর্ঘ ছুটি দিই। ঈদের আগে কারখানা ও অফিস সবক্ষেত্রেই সবাই খুব ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তাই পরিবার-পরিজনদের সাথে দীর্ঘ ছুটি উপভোগের পর প্রশান্তি মনে সবাই কাজে যোগদান করেছে। ফলে আমিও নতুন উদ্যমে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করি। নতুন অর্থবছর সবেমাত্র শুরু হলো। সেই হিসেবে আমার ব্যবসায়িক উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা বর্ধিতকরণের লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা স্থির করেছি। সেই লক্ষ্যেই মানসিকভাবে এগিয়ে যেতে চাই। যাতে গত বছরের ভুলভ্রান্তির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।