নিজেদের জমি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণে গণভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া আবুল কালাম আজাদের পরিবারের ইচ্ছের বিরুদ্ধে জমি নিতে পারবে না বলে তাদের আশ্বস্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিঞা আজাদের পরিবারকে বলেছেন, `অমল পোদ্দারের কাছে বিক্রির জন্য বায়না করা সাড়ে ১৫ শতাংশ জমির বাকি টাকা যে কোন সময় নামজারি ছাড়াই আম মোক্তারনামা দিয়ে আবুল কালাম আজাদের পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’
বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসক তার কার্যালয়ে আবুল কালাম আজাদ ও র্যাবের হাতে ইয়াবাসহ গ্রেফতার সোহেলের বাবা নুরু উদ্দিনের কথা শুনে তিনি এই আশ্বাস দেন। তবে ইয়াবাসহ গ্রেফতার আবুল কালাম আজাদের ভাই সোহেলের বিষয়ে তার কিছুই করার নেই বলে জানান জেলা প্রশাসক।'
তিনি আরো জানান, এ নিয়ে মেট্রো নিটওয়্যারের মালিক অমল পোদ্দারের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এ নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সাদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল রশিদ মোল্লা বলেন, ‘আমরা আবুল কালাম আজাদদের সমস্যা নিয়ে অমল পোদ্দারের সঙ্গে কয়েক দফা সালিসে বসেছি। কিন্তু তারা আমাদের সালিস মেনে নেয়নি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু নাছের ভূঁইয়াকে ২০/২৫ দিন আগে জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে অমল পোদ্দারের লোকজন ইয়াবা দিয়ে নিরীহ সোহেলকে র্যাব দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছে। তাদের টাকা আছে, যা খুশি তাই করতে পারেন।’
উল্লেখ্য, অমল পোদ্দার গত দেড় বছর আগে তাদের কাছ থেকে সাড়ে ১৫ শতাংশ জমি সাড়ে ২৩ লাখ টাকায় কেনার জন্য পাঁচ লাখ টাকায় বায়না করে। এরপর আরো দুটি (১১ ও ১৯ শতাংশ) জমি অমল পোদ্দারের কাছে বিক্রি করার জন্য তাদের চাপ দেয় ও দুটি জমিতে বালু ভরাট করতে থাকে। ওই জমি না দিলে সাড়ে ১৫ শতাংশ জমি তারা রেজিস্ট্রি করে নেবে না বলে জানায় অমল। এর প্রতিবাদ করলে সোহেলকে অমল পোদ্দারের ভাতিজা বাপ্পি পোদ্দার গংরা ইয়াবাসহ র্যাব দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছে।
