ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আবারও দুগ্রুপে সংঘর্ষে কমপক্ষে২ জন আহত হয়েছে। পুলিশ এসময় ৭ জনকে আটক করে। আহতরা হলেন: ছাত্রলীগ কর্মী আলী ও রাসেল। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় কমিটি ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা দেয়। এতে মাহাবুব হোসেন রনিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় সানোয়ার পারভেজ পুলককে। কিন্তু ছাত্রলীগের একাংশ ওই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আরেকটি কমিটি ঘোষণা দেয়। এতে সভাপতি করা হয় জিএমসিরাজী মিজান ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় সৌরভ দাসকে। এ কমিটিকে কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দবিরুল ইসলাম এমপি।
কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হাসপাতল এর সামনে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় দুগ্রুপে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে কমপক্ষে ২ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিজান ও সৌরভ গ্রুপ একত্রিত হয়ে আবারো রনি ও পুলক গ্রুপকে ধাওয়া করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ আওয়ামী লীগের অফিস থেকে রামদা ও বাশের লাঠি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ওই সময় শহরের দোকানপাট, যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে একটি জরুরি বৈঠক বসে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক কুরাইশী, আওয়ামী লীগ নেতা মকবুল হোসেন হোসেন বাবু, সদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো, পৌর মেয়র এসএমএ মঈন, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মঝিদ আপেল প্রমুখ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল।
ঠাকুরগাঁও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান গনি জানান, তারা আমাদের কমিটিকে মেনে নিতে পারতেছে না। তাই তারা আমাদের উপর বার বার হামলা চালাচ্ছে। একাংশের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দাস জানান, রনি ও পুলক গ্রুপের কিছু কর্মী আগে আমাদের উপর হামলা চালায়। পরে এ নিয়ে সংঘর্ষ বাধলে পুলিশ আমাদের উপর লাঠি চার্জ করে।
আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মেহেদি হাসান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে। সংঘর্ষ এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
