সা ক্ষাত্কা র

‘বিশ্ববিদ্যালয় হবে গবেষণা কেন্দ্র’

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:৪৬

n উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনি কোন্ বিষয়গুলোতে সবচেয়ে প্রাধান্য দিয়েছেন?

ড. মীজানুর রহমান: আমি প্রথমেই লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছিলাম শিক্ষা ও গবেষণার মান বৃদ্ধি করাকে। যা ইতোমধ্যে করতে পেরেছি। নতুন যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে এর কোন কোনটায় ভাইস-চ্যান্সেলর ছাড়া আর কোন অধ্যাপক নেই। আবার কোন কোনটিতে দুই/তিন জন অধ্যাপক আছে। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মুহূর্তে ১০০ জন অধ্যাপক রয়েছে। এদের মধ্যে ৯৮ জনের পিএইচডি ডিগ্রি আছে। বর্তমানে ১৫০ জন শিক্ষক আছেন যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষারত। এই শিক্ষকরা যখন ফিরে আসবেন তখন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি জ্ঞানভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হবে। আমার ভালো লাগাটা এখানেই যে, আমি দেশের মেধাবী শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের এখানে আকর্ষণ করতে পেরেছি। মানুষ একসময় মনে করত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মানে তো জগন্নাথ কলেজই। গত ছয় বছরের চেষ্টায় সেই ধারণাটা ভাঙতে সক্ষম হয়েছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে দেশের শিক্ষাঙ্গনে ‘নতুন ব্র্যান্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এছাড়াও গত কয়েক বছরে বেশ কিছু যুগোপযোগী নতুন বিভাগ চালু করি, এছাড়াও শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট চালু করা হয়েছে।

n জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন সম্পর্কে কিছু বলুন?

ড. মীজানুর রহমান: গত অক্টোবর মাসে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১১৭তম সভায় ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন, ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়ের পশ্চিমতি মৌজায় প্রায় ২০০ একর ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। এছাড়া গত ৯ অক্টোবর একনেক সভায় ভূমি অধিগ্রহণ এবং উন্নয়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উক্ত প্রকল্প অনুমোদন করেন। যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। শিক্ষাখাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য এত জায়গা ও টাকা স্বাধীনতা উত্তরকালে কোন সরকার বরাদ্দ দেয়নি। এই প্রকল্পটা হলো অন্তর্বর্তীকালীন প্রকল্প। এটা আসলে মূল প্রকল্প তৈরি করার জন্য একটি প্রকল্প।

n অপূর্ণতা সম্পর্কে জানতে চাই?

ড. মীজানুর রহমান: এখানে ভালো ক্যান্টিন নেই, আবাসন ব্যবস্থা নেই, লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই নেই- এগুলো উপাচার্য হিসেবে আমাকে খুব পীড়া দেয়। আশ্চর্যের ব্যাপার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জায়গাটা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে কাগজপত্রে নেই, শুধু দখলে আছে। এখন আমরা সরকারের কাছ থেকে ২০০ একর জায়গা নামে বরাদ্দ পেয়েছি। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি জমির মালিক হলো। এই কাজটুকু অন্তত করে দিয়ে গেলাম। ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পেল তার আপন ঠিকানা। এটাই আমার তৃপ্তি।