সোমবার বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯১তম জন্মবার্ষিকী। এই উপলক্ষে নড়াইলের জেলা প্রশাসন ও এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শিল্পীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআন তেলওয়াত, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা।
১৯২৪ সালের এই দিনে নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ে মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এসএম সুলতান। তার বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবি। বাবা-মা আদর করে নাম রেখেছিলেন লাল মিয়া।
বরেণ্য চিত্রশিল্পীর জন্মদিন পালন উপলক্ষে আগামী ২৬ আগস্ট থেকে নড়াইলের সুলতান মঞ্চে চার দিনব্যাপি সুলতান উত্সবের আয়োজন করা হয়েছে। উত্সবে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের চিত্র শিল্পীদের নিয়ে আর্টক্যাম্প, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সঙ্গীত-নৃত্যানুষ্ঠান, নাটক, ডুকুমেন্টরি ফ্লিম প্রদর্শনী এবং চিত্রা নদীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থানের মহিলা ও পুরুষ নৌকা বাইচ দল অংশ গ্রহণ করবে। এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসন এবং এসএম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশন এই উত্সবের আয়োজন করেছে।
বাঙালি জাতিসত্তার গভীরতম অন্তর ভূমিতে যে অমিত শক্তি সুুপ্ত ছিল সহস্র বছর ধরে তারই নান্দনিক শৈল্পিক প্রকাশের অন্যতম সূর্যসারথি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান। চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৭০ বছরের বোহেমিয়ান জীবনে তিনি তুলির আঁঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতী মানুষের সাথে নিজেকে একাকার করে সৃষ্টি করেছেন ‘পাট কাটা’, ‘ধানকাটা’, ‘ধান ঝাড়া’, ‘ধান ভানা’, ‘জলকে চলা’, ‘চর দখল’, ‘গ্রামের খাল’, ‘গ্রামের দুপুর’, ‘নদী পারা পার’, ‘ধান মাড়াই’, ‘জমি কর্ষণে যাত্রা’, ‘মাছ ধরা’, ‘নদীর ঘাটে’, ‘গুন টানা’, ‘ফসল কাটার ক্ষণে’ , ‘শরতের গ্রামীণ জীবন’, ‘শাপলা তোলা’র মতো বিশ্ব বিখ্যাত সব ছবি।
১৯৫০ সালে ইউরোপ সফরের সময় যৌথ প্রদর্শনীতে তার ছবি সমকালীন বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদর দালি, পল ক্লী, কনেট, মাতিসের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। সুলতানই একমাত্র এশিয়ান শিল্পী যার ছবি এসব শিল্পীদের ছবির সঙ্গে একত্রে প্রদর্শিত হয়েছিল। কালোত্তীর্ণ এই শিল্পী ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্সিয়াল আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পদক পেয়েছিলেন।
১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
