ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নীলকে হত্যার পর ঘাতকরা সিএনজি অটোরিকশা করে পালিয়ে যায়। সিএনজি অটোরিকশাটি বাড়িতে প্রবেশের বড় গলির মুখে দাঁড় করানো ছিল। ডিবির কর্মকর্তারা গতকাল পূর্ব গোড়ানের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য জেনেছেন। অন্যদিকে নীলাদ্রি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া চারজনকে গত তিন দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি মামলার তদন্তে নিয়োজিত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল থানা থেকে মামলার তদন্তভার পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ডিবির ঊর্ধ্বতনরা।
গত শুক্রবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের পূর্ব গোড়ানের ১৬৭ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলায় ব্লগার নিলয়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ হত্যা মামলার তদন্তভার গতকাল সোমবার খিলগাঁও থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবিতে ন্যস্ত করেছেন ডিএমপি কমিশনার। দায়িত্ব নেয়ার পর ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি গোয়েন্দা টিম গতকাল সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ১৬৭ নম্বর বাসার আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছে। সেখানে তারা বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, নিলয়কে হত্যা করতে আসা ও যাওয়ার সময় খুনিরা একটি সিএনজি অটোরিকশা ব্যবহার করে। আলামত হিসাবে জব্দ করা একটি টি-শার্ট, পানির বোতল ও রক্তমাখা গামছা খুনিদেরই বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। এসব আলামত সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে মামলায় আশানুরূপ অগ্রগতি হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। হত্যাকাণ্ডের সময় নিলয়ের ‘একটি ল্যাপটপ ও সিম্ফোনি মোবাইল’ খোয়া গেছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে একাধিক গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ব্লগার নিলয় হত্যাকাণ্ডে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) একটি গ্রুপ জড়িত। এবিটির একাধিক টিম রয়েছে। ইমেইল ফেসবুকে নিলয় হত্যার দায় স্বীকার করে নেয়া আনসার আল ইসলাম এবিটির একটি টিম।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার আরো বলেন, আগের ব্লগার হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে নিলয় হত্যাকাণ্ডের কিছু মিল রয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধরে নিচ্ছি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ছোট ছোট গ্রুপ যেমন-আনসার আল-ইসলাম, আনসার আল-বাংলাদেশসহ বিভিন্ন নামে দল উপ-দলে বিভক্ত হয়ে ব্লগারদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করছে।