বিআইডব্লিউটিএ’র দ্বিতীয় দফায় উচ্ছেদ অভিযানে ঝাউচর, বালুর চর ও মধ্যের চর এলাকায় তিন গ্রাম ও বুড়িগঙ্গা নদী দখল করে গড়ে উঠা মধুসিটির ১০০ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার উচ্ছেদ করা হয়েছে নদীর পাড়ে থাকা প্রায় অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা। কেরানীগঞ্জের প্রভাবশালী সলিম ও আমিন বুড়িগঙ্গা নদী ভরাট করে মধুসিটি হাউজিং নির্মাণ করে গত সাত বছর ধরে গ্রাহকের কাছে প্লট বিক্রি করে আসছে। বুড়ীগঙ্গা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় নদী পথে ঢাকার মোহাম্মদপুরের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এই এলাকার পরিবেশে বিপর্যয় নেমে আসে।নদীর ১১৮ একর জমি ছাড়াও সরকারি প্রায় একশ’ একর খাস জমি দখল করেছে মধুসিটি। এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মধুসিটির ক্যাডার বাহিনী দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল। স্থানীয় থানা পুলিশ ও ভূমি অফিসে অভিযোগ দিলেও মধুসিটির সলিম ও আমিনের প্রভাবের কারণে তারা এতদিন সুবিচার পায়নি। গতকাল বিআইডব্লিউটিএ মধুসিটির দখলকৃত জমি উদ্ধার অভিযানে নামলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি নেমে আসে। তারা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে। তবে গতকাল বুড়ীগঙ্গার একশ একর জমি উদ্ধারের পর টোটাইল মৌজায় ৮ একর ও শ্যামনগর মৌজার ৯ একর সরকারি জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া মধুসিটির দখলকৃত সরকারি ও সাধারণ মানুষের আরো একশ’ একর জমি উদ্ধারের কাজ আজ থেকে চলবে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিটিএ।
বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর পরিচালক শফিকুল হক বলেন, মধুসিটির উদ্ধারকৃত জমি খনন করে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে একশ একর ভরাট জমির খনন ব্যয় সরকার দিবে না কি মধুসিটির কাছ থেকে আদায় করা হবে সে সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। তিরি আরো বলেন মধুসিটি ও আমিন মমিন হাউজিং কোম্পানি এ অভিযানের পর যেন জমি পুন:দখল করতে না পারে সে জন্য মধুসিটি ও আমিন মমিন হাউজিং দুটিতে পৃথক দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করা হবে এবং পাহারার ব্যবস্থা রাখা হবে।
ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আবু সিদ্দিক জানান, গত সাত বছর ধরে মধু সিটির মালিক সলিম ও আমিনের বিরুদ্ধে ঝাউচর, মধ্যের চর ও বালুর চরের তিনটি গ্রাম ও বুড়িগঙ্গা নদীসহ ১১৮ একর জমি দখল করে ভরাট ও প্লট করে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে প্রতারিত করে আসছিল।
ঢাকা জেলা প্রেসক্লাব ও হাজী আবু সিদ্দিকের দুটি অভিযোগের আলোকে দুদকে মধুসিটির বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। ঐ মামলায় সাক্ষী দিতে গেলে মধুসিটির লোকজন গত ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আবু সিদ্দিককে কুপিয়ে জখম করে। এ ব্যাপারে তিনি বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মধুসিটির মালিক সলিমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। সে মামলাও চলমান আছে। তিনি আরো বলেন এখন টোটাইল ও শ্যামনগর মৌজায় ১৭ একর জমি ও চলাচলের তিনটি রাস্তা উদ্ধার করতে হবে।
ঢাকা নৌ বন্দর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, দখলদাররা যতই শক্তিশালী হোক না কেন কেউই উচ্ছেদ অভিযান থেকে ছাড় পাবে না। প্রয়োজনে মধুসিটি ও আমিন মমিন হাউজিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করারও হুঁশিয়ারি দেন।
