এ পর্যন্ত বিস্ফোরিত সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু বোমার একটি প্রতিকৃতি প্রদর্শন করতে যাচ্ছে রাশিয়া। আগামী মাসে মস্কোর মানেঝ সেন্টারে রাশিয়ার পরমাণু সাফল্য নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য এক প্রদর্শনীতে সোভিয়েত আমলের ‘জার বোম্বা’র প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হবে। খবর বিবিসির।
১৯৪৫ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশটির পরমাণু সাফল্যের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো প্রদর্শনীতে স্থান পাবে। তবে ‘জার বোম্বা’ নামে পরিচিত এএন-৬০২ হাইড্রোজেন বোমার খোলটি প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৬১ সালের ৩০ অক্টোবর মেরু বৃত্তের ভেতরের দ্বীপ নোভায়া জেমলিয়ায় ৫৮ মেগাটনের এই হাইড্রোজেন বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমায় ফেলা বোমার চেয়ে এই হাউড্রোজেন বোমাটি তিন হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল।
বিশেষভাবে ডিজাইন করা একটি টুপোলেভ টিইউ-৯৫বি বোমারু বিমান সাড়ে দশ কিলোমিটার উপর থেকে সাড়ে ২৬ টন ওজনের বোমাটি নিক্ষেপ করেছিল। বোমাটির বিস্ফোরণে তৈরি অভিঘাত পৃথিবীকে তিনবার প্রদক্ষিণ করেছে বলে রুশ গণমাধ্যমগুলো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিস্ফোরণের ফলে যে অগ্নিকুণ্ডলী তৈরি হয়েছিল তা চার দশমিক ছয় কিলোমিটার প্রশস্ত ছিল এবং এর (মাশরুশ ক্লাউড) উচ্চতা ছিল ৬৭ কিলোমিটার।
মস্কো থেকে ৪৬৫ কিলোমিটার পূর্বের শহর সারোভ থেকে বোমার খোলটি ক্রেমলিনের কাছে প্রদর্শনীস্থলে নিয়ে আসা হবে। সারোভ রাশিয়ার সংরক্ষিত পরমাণু গবেষণার শহর। ক্ষেপণাস্ত্রের পরমাণু ওয়ারহেড উত্পাদন করা শহরটিতে প্রবেশে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। ‘পরমাণু শিল্পের ৭০ বছর সাফল্যের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া’ শিরোনামে প্রদর্শনীটির আয়োজন করছে রাষ্ট্রীয় কর্পোরেশন রোসাটোম। প্রদর্শনীটি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
