জেলেদের গল্প নিয়ে ধারাবাহিক ‘জলপুত্র’

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ১৭:৪৮

নির্মাতা পারভেজ আমিন এবার নির্মাণ করলেন হরিশংকর জলদাশের উপন্যাস অবলম্বনে ধারাবাহিক নাটক ‘জলপুত্র’। মহি মুহাম্মদের চিত্রনাট্যে এই ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন শহিদুজ্জামান সেলিম, আজাদ আবুল কালাম, আষিস খন্দকার, রওনক হাসান, রুনা খান, নাদিয়া নদী, মনিরা মিঠু, আহসানুল হক মিনু, আরযা, মাহামুদুল ইসলাম মিঠু প্রমুখ। বরিশালের কুয়াকাটার বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং হওয়া এই নাটকের গল্পে দেখা যাবে, উনিশ বছরের ভুবনেশ্বরী সাগরের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার দৃষ্টিতে পলক পড়ে না। তার এখনো আশা, তার স্বামী চন্দ্রমণি সাগর থেকে ফিরে আসবে। সে আশায় সে বুক বেঁধে থাকে। মাছ বিক্রি করে সে ছেলের লেখাপড়া চালায়। ছেলে গঙ্গাপদকে সে মা গঙ্গার ভোগে দিতে চায় না। তাই সে ওকে লেখাপড়া শেখায়। শ্রাবণ মাস জেলেদের সুখের মাস। বিজনবিহারি জেলে পাড়ার সর্দার। জেলেপাড়ায় বিনোদনের ব্যবস্থা হয়েছে। নাউট্যাপোয়া মেয়েদের সাজে আসর মাত করছে। জেলে নরনারীরা নাউট্যাপোয়ার নাচ আর গান শুনছে। আসর শেষে এই নাউট্যাপোয়াকে আবার সর্দারদের মনোরঞ্জন করতে হবে। পাঁচ পাঁচটি বছর ধরে ভুবনেশ্বরী অপেক্ষায় আছে। স্বামী চন্দ্রমণি দরিয়া থেকে ফেরেনি তার। এদিকে তার সংগ্রামী জীবন থেমে থাকে না। বহদ্দারদের থেকে মাছ কিনে সে পাড়ায় পাড়ায় বিক্রি করে। লাভের স্বল্প টাকা দিয়ে পুত্র গঙ্গাপদ আর শ্বশুরের মুখে খাবার তুলে দেয়। গৌরাঙ্গসাধু গলায় মৃদঙ্গ ঝুলিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়ায়। কারও অসুখের খবর শুনলে শিশি থেকে বড়ি বের করে দেয়। আর জেলে নারীদের পুরুষদের বলে, তাদের ছেলেমেয়েদের যেন স্কুলে পড়ায়। সাধু, ভুবনকে মা জননী বলে ডাকে। বিজন বহদ্দার জেলে পাড়ার সর্দার। অসুরের শক্তি তার শরীরে। গরিব গোপালের স্ত্রী বকুলবালার দিকে তার বদখেয়াল। গোপাল বিজন থেকে মাছ আনে ঠিক তবে ঠিকমতো টাকা দিতে পারে  না। তাই সে বউকে দিয়ে টাকা পাঠায়। বিজন বকুলবালার হাতে মাঝে মাঝে আরও টাকা গুঁজে দেয়। বকুলকে ভোগ করাই তার উদ্দেশ্য। মামাবাড়িতে বেড়াতে এসেছে মাগইন্যা। তার স্বভাব চরিত্র ভালো না। তাই মামি ভুবনেশ্বরী তাকে পছন্দ করে না। গ্রামের যত নষ্ট ছেলের সঙ্গে মাগইন্যার চলাফেরা। ভুবনেশ্বরীর এক ভাগ্নিকে চালাকি করে নায়র আনতে গিয়ে রাতের বেলা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে উঠতে চায়। কিন্তু কুসুমির বুদ্ধিমত্তায় আর রাজবালার সহযোগিতায় মাগইন্যার কুট বুদ্ধি ভেস্তে যায়। মাগইন্যা জেলেপাড়ার নারীপুরুষের হাতে নাকাল হয়। দীনদয়াল সন্দীপের মানুষ। দরিয়া তাদের ভিটেমাটি সব গ্রাস করেছে। তাই সে মা-বাবা আর স্ত্রী নিয়ে পতেঙ্গা জেলে পল্লীতে আশ্রয় নিয়েছে। সে জেলে পল্লীর ছেলেমেয়েদের অক্ষর জ্ঞান দান করতে চায়। পাড়ার সর্দার ও অন্যান্যরা সিদ্ধান্ত নিল তাই হবে। আস্তে দীন দয়াল জেলে পাড়ার সবার মনে আলো ছড়াতে লাগল। জেলে পল্লীর মানুষরা বিশ্বাস করে দীনদয়াল ঈশ্বর প্রেরিত মানুষ। কিন্তু সেই দীনদয়াল আর জেলে তরুণী মঙ্গলীকে একদিন নাজুক অবস্থায় দেখে ফেলল একজন। আর যায় কোথায়, বিচার হলো। ঢেন্ডেরি দেওয়া হলো। মাথার চুল কেটে মুখে চুন কালি লাগিয়ে দীনদয়াল আর মঙ্গলীকে পাড়ায় ঘুরানো হলো। তরুণ গঙ্গাপদ এখন পাড়ার নানা দুর্গতি দূর করার চেষ্টা করছে। এতে সে অনেকের শত্রু হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দাদনদার শুক্কুর আর শশীভূষণের। শশীভূষণ আর শুক্কুর এখন জেলেপাড়ায়র লোকদের আগের মতো ঠকাতে পারে না। দরিয়ায় মাছ নিয়ে বেশি বাহদুরি ফলাতে পারে না। কারণ অন্যায়কারীদের শায়েস্তা করার জন্য গঙ্গাপদ ও তার দল মুখিয়ে আছে। তাই গঙ্গপদকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করছে শশীভূষণ আর শুক্কুর। একদিন সকালে ঠিকই পতেঙ্গাবাসী গঙ্গার লাশ খালের কিনারে পড়ে থাকতে দেখল। জেলেপাড়ার লোকজন শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ল। গঙ্গার শিয়রের কাছে ভুবনেশ্বরী—স্তব্ধ, নিথর। পাথরের মতো বসে আছে সে। তার দৃষ্টি উঠানের জড়ো হওয়া অসংখ্য মানুষকে ছাড়িয়ে দূরে—বহুদূরে প্রসারিত। কারণ ভুবন, গঙ্গার অনাগত জলপুত্র বনমালীর জন্য অপেক্ষা করবে। এর প্রতিশোধ একদিন ঠিকই নেবে সে। নাটক প্রসঙ্গে নির্মাতা পারভেজ আমিন বলেন, ‘জেলেদের জীবনের গল্প নিয়ে এই নাটক। এতে তাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটা নানা টানাপোড়েন, সুখ-দুঃখ, চাওয়া-পাওয়া আরও অনেক কিছুই উঠে এসেছে। আশা করি নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে।’ ধারাবাহিক নাটক ‘জলপুত্র’ আগামী রবিবার থেকে দীপ্ত টিভিতে প্রচার শুরু হবে।