গত তিনদিনের টানা বর্ষণ ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা জুড়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীন কাঁচা ও পাকা সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদী অববাহিকার কয়েক শ পরিবার। পানির তোড়ে উপজেলার প্রায় চার হাজার পুকুরের কয়েক কোটি টাকার মাছ ভেসে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে মৎস্যচাষিরা।
উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের দলবাড়ীর পাড় গ্রামের মৎস্যচাষি হাফিজুর জানান, তার তিনটি পুকুরের ১০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।
রাজামরাম গ্রামের মৎস্যচাষি শাহজাহান জানান, জাল দিয়ে মাছ রক্ষা করার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন। পানিতে তার সাত হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষেত তলিয়ে গেছে। তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের মুখে খামার দামার হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, উপজেলার প্রায় সব শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সাদুয়া দামার হাট, খামার দামার হাট, সাতালস্করসহ কয়েকটি গ্রাম তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘর, গাছপালা উপড়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, উলিপুর পৌরসভার নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে প্রকট জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উলিপুর-নাজিমখাঁন সড়কে সাবেক মন্ত্রী একেএম মাঈদুল ইসলাম এমপির বাসভবন সংলগ্ন রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বর, থানা চত্বর, খোদ পৌরসভা চত্বরসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার অশোক কুমার রায় জানান, পানি দ্রুত না নামলে আমন ক্ষেতের ক্ষতি হবে।
