উত্তরে নতুন এলাকা প্লাবিত

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৫, ০২:০৯

সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর ও ফরিদপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তবে পূর্বাঞ্চলে পাহাড়ি ঢলের পানি আসা বন্ধ হওয়ায় কোন কোন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ পানিবন্দী হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙ্গন তীব্র হয়েছে।

 
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিন ধরে যমুনার পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত ৪৮ ঘন্টায় নদীর পানি ৯৭ সেন্টিমিটার বেড়ে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে রবিবার সকালে বিপদসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আকস্মিক পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার কাজিপুর, এনায়েতপুর, শাহজাদপুর, চৌহালী ও সদর উপজেলার শতাধিক গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
 
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে পানি ওঠায় এলাকার ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
 
জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে জেলার সাতটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। রোপা আমন ও সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
 
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। রবিবার বিকালে ফেরিঘাট পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কুড়িগ্রাম জেলার ৫৩ ইউনিয়নের ২২৬টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে ১ লাখ ৪২ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। গ্রামের পর গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে বসতভিটা ও কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বানভাসি মানুষ গবাদি পশু নিয়ে পাকা সড়ক ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
 
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়াসহ সব নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার চারটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। গতকাল রবিবার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আমন বীজতলা, বর্ষালী ও আউশ ধান, পটল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বন্যার পাশাপশি দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙ্গন। গত ৩ দিনে যমুনার ভাঙ্গনে সাঘাটা ও তিস্তার ভাঙ্গনে সুন্দরগঞ্জে প্রায় দুইশত পরিবার গৃহহারা হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে ১২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
 
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইগাতী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানির তোড়ে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় ক্লাস বন্ধ হয়ে গেছে।
 
পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, রংপুরের পীরগাছায় গতকাল রবিবার পর্যন্ত আরো ২০ গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
 
আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর আত্রাইয়ে দুটি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে শতশত বিঘা জমির ফসল। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
 
মিঠাপুকুর (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, রংপুরের মিঠাপুকুরে নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসলের জমি এখন কয়েক ফুট পানির নিচে।
 
রংপুর প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনের অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দী হয়ে পড়া রংপুর মহানগরীসহ তিস্তা নদীর তীরবর্তী গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। দেখা দিয়েছে খাদ্যসহ খাবার পানির সংকট। কিছু কিছু এলাকার পানি নেমে গেলেও এখনো পানিবন্দী রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। ঘরের ভিতরে পানি ঢুকে পড়ায় ওইসব পরিবারের মানুষসহ পশুকে আশ্রয় নিতে হয়েছে চৌকি ও মাচার উপর। পানিবন্দী পরিবারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র ছুটছে। অনেকেই তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে, কেউ কেউ ফ্লাড সেন্টারে, উঁচু রাস্তা কিংবা বাঁধের ধারে আশ্রয় নিয়েছে।
 
সদরপুর (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত এক মাসে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙ্গনে প্রায় দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি, গাছপালা ও চারশ একর ফসলের মাঠ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
 
সিলেট অফিস জানায়, পাহাড়ি ঢল বন্ধ হওয়ায় সিলেটের কোন কোন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেখানে বেশ কিছু ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ জানায়, বন্যায় এরই মধ্যে সিলেট বিভাগে সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর রোপা আমন ও বেশ কিছু বীজতলা তলিয়ে গেছে। কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়। সেখানে ৭ হাজার ৪৯৫ হেক্টর রোপা আমন তলিয়ে গেছে।
 
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনার তিন উপজেলার ৫০ গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত তিন দিনে বেড়েছে সুমেশ্বরী, কংশ, উব্দাখালীসহ ছোট-বড় বেশ কয়েকটি নদীর পানি। দুর্গাপুরে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে এক হাজার হেক্টর রোপা আমন জমি  তলিয়ে গেছে।
 
সাঘাটা (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্বাংশের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি পয়েন্টে যমুনার ভাঙ্গনও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।