অস্তিত্ব সংকটে হাওরবাসী

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৫, ০২:৫০

পরিকল্পনা, উদ্যোগ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দেশের হাওর অঞ্চলের দুই কোটি মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেনি। কাটেনি দারিদ্র্যের অন্ধকার। কালের বিবর্তনে ভাটির এই জনপদে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সর্বোপরি বৈশ্বিক উষ্ণতায় পরিবেশগত সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার ‘হাওরভিত্তিক অর্থনীতি’ এখন বিপর্যস্ত। দিনে দিনে জলবায়ু সংকট তীব্র হচ্ছে। বর্ষায় উজান থেকে পলি, বালি নেমে নদী, খাল কৃষি জমি ভরাট হচ্ছে। মাছের অভয়াশ্রম ধ্বংস হচ্ছে। নদী ভাঙ্গন তীব্র হচ্ছে। অকালে বৃষ্টি, বন্যা, খরা ও পাহাড়ি ঢলে ফসলি জমি বিনষ্ট হচ্ছে। যদিও ইরি বাড়ছে, কিন্তু ঐতিহ্যবাহী আমন-আউশ চাষ কমে যাচ্ছে। এলাকার মানুষের প্রধান অবলম্বন মাছ, ধানসহ প্রাকৃতিক সম্পদ সংকুচিত হয়ে আসছে। মিলছে না প্রয়োজনীয় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ দরকারী সেবা। ফলে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে চলেছে হাওরবাসী। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়ছে।

 
মূলত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রাকৃতিক জলাভূমিকে আমরা হাওর বলে থাকি। সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একাংশ নিয়ে এই হাওর এলাকা গঠিত। এই ৭  জেলার ৪৮টি উপজেলার ২ কোটি মানুষ হাওরে বসবাস করে। এর মধ্যে ২০ লাখ একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য বছরের ৬-৭ মাসই হাওরের অধিকাংশ মানুষ পানিবন্দী হয়ে বেকার থাকে। মাছ ও কৃষির উপর নির্ভরশীল এসব মানুষের জন্য কোন সরকারই কর্মসংস্থানের দিকে সেভাবে নজর দেয়নি। এলাকার ২৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ মানুষেরই জমি নেই। ২০০১-২০১০ পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারেনি। হাওরবাসীর সুরক্ষার জন্য বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে হিজল-করচ বাগ ও চাইল্লা বন (বিশেষ ধরনের শক্ত লতার বন, যা প্রবল ঢেউ থেকে হাওরের ঘরবাড়ি রক্ষা করে)। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও এখানে ঝুঁকি বাড়ছে।
 
হাওর হচ্ছে মিঠাপানির এক বিশাল আধার, চারদিকে অথৈ পানি আর পানি, সমুদ্রসম এর বিস্তৃতি ও বিশালত্ব। প্রায় পাঁচ হাজার বর্গমাইল আয়তনের হাওর এলাকায় মূলত দুটি মৌসুম বর্ষা ও শুকনো। এক মৌসুমের সঙ্গে অপর মৌসুমের বিশাল বৈপরীত্য পরিবেশ ও প্রতিবেশে। হাওরকে পুরোপুরি বুঝতে হলে এর দুটি রূপই ভালোভাবে জানতে হবে। হাওরের মধ্যে বিলের পারে, নদীর ধারে গড়ে উঠেছে টিলাসম উঁচু গ্রাম, ঘন জনবসতি। গ্রামগুলো সাধারণত ভূমি থেকে ১০-১২ ফুট উঁচু। বর্ষায় যা দ্বীপের মতো ভাসমান ও ভঙ্গুর। এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম বিচ্ছিন্ন, দূরত্ব অনেক। ‘বর্ষায় নাও আর সুদিনে দু পাও’ এরকম অবস্থা হচ্ছে হাওর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
 
বিশিষ্ট হাওর গবেষক বাংলাদেশ নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক সরফুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভাটি অঞ্চলে মানুষের অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। এজন্য দ্রুততম সময়ে নদী-হাওর সংরক্ষণ ও হাওর উন্নয়ন বোর্ডকে রিফর্ম করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।
 
হাওরবাসীর দাবি, প্রতি গ্রামে কর্মসংস্থানের জন্য কুটির শিল্প, পোল্ট্রিফার্ম, এগ্রো  বেইজড কর্মসূচি ব্যাপক ভিত্তিতে শুরু করা দরকার। তবে, সবার আগে এলাকার ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। আর শিক্ষাই মানুষের জীবনচিত্র পাল্টে দেবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র সরকারের কর্মসৃজন কর্মসূচি ও এনজিওদের স্বল্প পরিমাণ কর্মসূচির মাধ্যমে এর স্থায়ী সমাধান হবে না। এ জন্য চাই বিশেষ কর্মসূচি। হাওরের পরিবেশ ও প্রতিকূলতাকে বিচার করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চরাঞ্চলের মত বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
 
হাওর অঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, প্রথমত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এ এলাকার মানুষের কৃষি বহির্ভূত কর্মসংস্থানের পথে আয় করার জন্য অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান এবং পণ্য উত্পাদনের পর তা বাজারজাতকরণের সুবিধা প্রদান— এইটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এছাড়া হাওর অঞ্চলের প্রধান আয়ের পথ হচ্ছে মাছ ধরা। ফলে এ ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান করা দরকার। তবে এসব কার্যক্রম সরকার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে সহব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে করতে পারলে বেশি কার্যকর হবে।
 
কাজী খলীকুজ্জমান বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের উপরে। যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব না হলে এখানকার মানুষের জীবনে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে না। আর পরিবেশগত বাধাকে মাথায় রেখে শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যাপারে স্কুলগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
 
হাওরে অকাল ও আগাম বন্যায় ফসলহানি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। পানি বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধান কাটতে হয়। এক বছরের ফসলহানির রেশ তাদের বেশ কয়েক বছর বহন করতে হয়। ধার-দেনা ও দাদনের টাকায় আবাদ করা ফসলডুবিতে হাওরবাসীর অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। তখন হাওরের ঘোলা জল আর কৃষকের চোখের নোনা জল সব একাকার হয়ে যায়। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মিত হলে হাওরের পানির স্থায়িত্ব বেড়ে একমাত্র নিশ্চিত ফসল বোরো ধান চাষও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
 
আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, ভাটির সার্বিক উন্নয়ন ও জলবায়ুর প্রভাব থেকে পরিত্রাণের জন্য পৃথক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও থোক অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও সুনামগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘যদিও এখানে উদ্বৃত্ত ফসল বোরো ধান। এর পরও বহু জমি থাকে অনাবাদী। এগুলোকে আবাদের আওতায় নিতে হবে। তাছাড়া হাওর খ্যাত সুনামগঞ্জে অসংখ্য খাল, নদী, জলাশয়ে লুটপাট বন্ধ করে সুষ্ঠু পরিচর্যার মাধ্যমে  মাছের উত্পাদন আরো কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।’ তিনি বলেন, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম, রাজশাহীর বরেন্দ্র এলাকার জন্য যে ভাবে বিশেষ প্রকল্প নেয়া হয়েছে সে ভাবে ভাটির জনপদের জন্য বিশেষ প্রকল্প নিলে প্রকারান্তরে দেশই উপকৃত হবে।
 
সুনামগঞ্জ- ২ আসনের সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ুর প্রভাবে এলাকায় বেকারত্ব বাড়ছে। অর্থনৈতিক মাইগ্রেশন চলছে। ভাটি হারাচ্ছে তার গৌরবময় ঐতিহ্য। এই ভাটির মানুষ এক যুগসন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছে। দেশকে মধ্যম আয়ে পরিণত করতে হলে, ভাটি অঞ্চল উন্নয়নে জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে বলে মত দেন তিনি। তিনি আরো বলেন, এখানকার বেশিরভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। আজ পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। অথচ হাওরে বছরে কয়েক শত কোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রণোদনা পেলেই সে সব বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
 
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাসিন্দা তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক সেবা পৌঁছে দেয়া যাচ্ছে না। হাওরবাসীর লেখাপড়া, স্বাস্থ্যসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোগেরও গুরুত্ব রয়েছে।
 
৯৪ সালের সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ জেলায় শিক্ষিতের হার ২২.৩ ভাগ, আর ২০১৫ সালে তা বেড়ে মাত্র ৩৫ ভাগ এ উন্নীত হয়। এর কারণ হিসাবে বলা হয়েছে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোতে স্কুলের অভাব রয়েছে। এ কারণে ২৮ ভাগ শিশু ঝরে পড়ে। তাই প্রতিটি গ্রামে একটি প্রাইমারি স্কুলের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম।
 
বাংলাদেশে দীঘি-পুকুর, হাওর, বাঁওড়, বিল, নদ-নদী, খাল ও প্লাবন ভূমি মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের আয়তন ৪৩.৪৭ লাখ হেক্টর। এর মধ্যে মুক্ত জলাশয় অর্থাত্ নদী, খাল-বিল, বাঁওড়ের আয়তন প্রায় ৪০.৪৭ লাখ হেক্টর। সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে জলমহালের সংখ্যা ১০,১১৯টি। সরকার ২০০৯ সালের ২৩ জুন প্রকৃত জেলেদের কল্যাণে নতুন জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি প্রণয়ন করে। ঘোষিত নতুন জলমহাল নীতিতে ‘জাল যার জলা তার’ নীতি অনুসরণসহ বেশকিছু পরিবর্তনের কথা থাকলেও জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন এবং মত্স্যসম্পদ উন্নয়নে এ নীতির বিশেষ কোন ভূমিকা নেই।
 
সূত্র মতে, হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন ও অধিবাসীদের জীবনের মান উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ হাওর উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করা হলেও সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এই বোর্ডটিকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিলেও তার কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে দেশের হাওরবাসী যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে যায়। তবে বর্তমান সরকার আবার ক্ষমতায় এসে হাওর উন্নয়ন বোর্ডকে কার্যকর করতে উদ্যোগী হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ১২ মে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর’ নামকরণ করা হয় এটিকে। গত জুলাই থেকে সমীক্ষা প্রকল্পের কাজ চলছে উল্লেখ করে সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, হাওরবাসীর জীবিকা উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।  এখন থেকে হাওরে যেকোন ধরনের প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের জন্য অধিদপ্তরের অনুমোদন নিতে হবে। অধিদপ্তরটি এ ক্ষেত্রে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবে। অধিদপ্তরটি দেশের যত জলা, বিল, হাওর, বাঁওড় আছে সবগুলোর উন্নয়নে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
 
বাংলাদেশের হাওর:দেশে প্রায় ৪০০ হাওর রয়েছে। ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থান বা এলাকার বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এই হাওরকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়- ১. পাহাড়ের পাদদেশে বা পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্থিত হাওর, ২. প্লাবিত এলাকার হাওর ও ৩. গভীর পানিতে প্লাবিত এলাকার হাওর।  তবে  দেশে সবচেয়ে বেশি হাওর রয়েছে সিলেট বিভাগে। হাওরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিলেটের হাকালুকি হাওর ও সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওয়ার। হাকালুকি দেশের সর্ববৃহত্ হাওর। এর আয়তন ১৮,১১৫ হেক্টর। ভূ-তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে উজানে প্রচুর পাহাড় থাকায় হাকালুকি হাওরে প্রায় প্রতি বছরই আকস্মিক বন্যা হয়। এই হাওরে ৮০-৯০টি ছোট, বড় ও মাঝারি বিল রয়েছে। শীতকালে এসব বিল ঘিরে পরিযায়ী পাখিদের বিচরণে মুখর হয়ে উঠে গোটা এলাকা।
 
সুনামগঞ্জ জেলায় টাঙ্গুয়ার হাওরের অবস্থান। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এ হাওর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি। জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলায় মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে এটি অবস্থিত। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝরণা এসে মিশেছে এই হাওরে। একসময় গাছ-মাছ-পাখি আর প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের আঁধার ছিল এই হাওর। ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। হাওর এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, হাওরের সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড সরকারের মধ্যে ২০০১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০০৩ সাল থেকে হাওরটি জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আছে। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ ও আনসার সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকে। সেখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ।