ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ভানোর ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুলিক নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের মধ্যদিয়ে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের রাশের হাট, কলন্দা, হলদি বাড়ি, নেকমরদ, রাণীংকৈল উপজেলা ও নদীর পূর্ব পারে রায়পুর ইউনিয়ের ভাউলারহাট, সেন্দুননা, তেতুলিয়া, কাঁচনা, হরিনন্দা সহ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আর ২টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই নদীর উপর দিয়ে চলাচল করে। দীর্ঘদিন নদীর উপর দিয়ে নৌকা ও হাটু পানি দিয়ে চলাচল করতে হত। আশে পাশের গ্রামের মানুষ জন্মের পর থেকেই বর্ষা মৌসুমে কলা গাছের ভেলা, নৌকা আর পানিতে সাতার কেটে যাতায়াত চালিয়ে যেতো।
IMG0
স্থানীয়রা জানান, এক সময় ব্রিজ না থাকায় এই পাড়ের মানুষ ঐ পাড়ে যেতে সময় লাগত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বর্ষাকালে খালের পানির তীব্র স্রোতে এই পাড়ের মানুষ ওপারে যাওয়া আসা একেবারেই বন্ধ থাকত। এই ব্রিজের দু’পাশে প্রায় ৩০ টি গ্রাম আছে। আর এখানে ব্রিজটি তৈরি হলে ৫ মিনিটের মধ্যে এপাড় থেকে ঐ পাড়ে যাতায়ত করতে পারবে।
ভানোর এলাকার বৃদ্ধা সুশিল সেন জানান, এক সময় দেখা যেত ব্রিজের অভাবে এই পাড়ের সাথে ঐ পাড়ের সর্ম্পক হত না। এমন কি নতুন আত্মীয়তা তথা বিবাহ শাদি করাতেও অনিহা থাকত। কিন্তু ব্রিজটি হলে ছেলে মেয়েদের স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন জায়গায় কম সময়ে যেতে পারবে।
কলন্দা তলী গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান, মিনারুল হক ও আব্দুস সোবাহান বলেন, শাক সবজিসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য ঠাকুরগাঁও আড়তে নিতে অনেক পথ ঘুরতে হয়। এতে পরিবহন খরচও বেড়ে যায়।
রাশহাট এলাকার বাসিন্দা দিদারুল ইসলাম বলেন, শিশুরা স্কুলে যাতায়াত করে ঝুঁকি নিয়ে। ফলে অভিভাবকরা থাকেন আতঙ্কে। এবার ব্রীজটি নির্মান হলে এলাকার শিক্ষার মানউন্নয়ন হবে।
শিক্ষক আমানত আলী জানান, কুলিক নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও সে দাবি বাস্তবায়নে কারও মাথাব্যথা ছিল না । আগে মানুষকে ১০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হতো না। ব্রীজটি নির্মান হলে এখানকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবে।
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন অর রশিদ ব্রিজটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ব্রিজটি নির্মাণ হলে এই এলাকার মানুষের হাজারো কষ্ট লাঘব হবে এবং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
ঠাকুরগাঁও- ২ আসনের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম জানান, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কুলিক নদীর উপর একটি ব্রিজ। আজ তা বাস্তবায়ন হচ্ছে। ব্রিজটির নির্মান কাজ শেষ হলে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ সহজে যাতায়াতের সুযোগ পাবে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ও সদর উপজেলার বায়পুর ইউনিয়ের মানুষের প্রাণের দাবি কুলিক নদীর উপর ব্রিজটি উদ্ভোধনের মাধ্যমে দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের ধার উন্মুক্ত হলে এলাকার অর্থনৈতিক মান উন্নয়ন হবে। উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও ২ আসনের এমপি দবিরুল ইসলাম গতকাল শুক্রবার এ ব্রীজের ভিত্তিপ্রস্ত উদ্বোধন করেন। দেড় শত ফুট দীর্ঘ সেতুটি বাস্তবায়ন করবে এলজিইডি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা। ব্রিজটি নির্মানে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা।
