কাদের শঙ্কামুক্ত খুলে দেওয়া হবে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৯

সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার আরো উন্নতি হয়েছে। তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত। কিডনি ও রক্তে সংক্রমণের যে সমস্যাগুলো ছিল, তাও এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। দুই একদিনের মধ্যে তার কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে দেওয়া হবে। তবে বাইপাস সার্জারি কবে করা সম্ভব হবে, তা বুঝতে শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের চিকিত্সকরা।

গতকাল বুধবার দুপুরে দ্বিতীয়বারের মত ব্রিফ করেন ওবায়দুল কাদেরের চিকিত্সায় গঠিত পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. ফিলিপ কোহ। এ সময় বোর্ডের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ের পর বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক এবং নিওরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আবু নাসের রিজভী ওবায়দুল কাদেরের চিকিত্সার আপডেট উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরের সব প্যারামিটারগুলো দিন দিন ভালোর দিকেই যাচ্ছে। ওনার কিডনি এখন খুবই স্টেবল আছে। তার ইনফেকশনের রেট এখন অনেক কমে গেছে। ব্লাড কাউন্ট যেটা ২৬ হাজার ছিল সেটা এখন ১২ হাজারে চলে এসেছে। ইউরিন আউটপুটও ভালো আছে। হার্টের কন্ডিশন, প্রেসার এবং হার্টবিট এখন খুব ভালো আছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত রবিবার সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে এনজিওগ্রামে তার হূদপিন্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করেন চিকিত্সকরা। অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে সোমবার বিকালে উন্নত চিকিত্সার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেদিন রাতেই মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিত্সকরা ওবায়দুল কাদেরের জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে চিকিত্সা শুরু করেন। মঙ্গলবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা বলেন, কাদেরের কিডনিতে কিছু জটিলতা এবং রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা বাইপাস সার্জারি করার কথা ভাবছেন। বুধবার মাউন্ট এলিজাবেথের চিকিত্সকদের সঙ্গে বসে সেতুমন্ত্রীর সর্বশেষ অবস্থা জানার পর সেখানে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ডা. আবু নাসির রিজভী। ডা. রিজভী বলেন, এভাবে যদি প্রগ্রেস করতে থাকে সেতুমন্ত্রীর চিকিত্সার জন্য তার শরীরের সঙ্গে যে ‘আর্টিফিশিয়াল ডিভাইসগুলো’ লাগানো রয়েছে সেগুলো আগামী দুই/একদিনের মধ্যে খুলে ফেলার কথা ভাবছেন সিঙ্গাপুরের চিকিত্সকরা। হয়তো আজ বৃহস্পতিবার কিছু খুলে ফেলবে। আগামী শুক্রবার দিন বাকিগুলো খুলে ফেলবে। আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় ডা. ফিলিপ কোহ আবার ব্রিফ করবেন।

ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা কাদের, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ও নিজাম হাজারী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহে আলম মুরাদ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, ফেনী পৌরসভার মেয়র হাজি আলাউদ্দিন, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর একেএম আজম ও আতাউর রহমান, ওয়েলফেয়ার অফিসার মোঃ আল আমিন হোসেন, ডিবিসি নিউজ চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল আহসান, অগ্রণী এক্সচেঞ্জ’র সিইও মোঃ শরিফুল ইসলাম, সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতারা এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গতকাল সকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য দেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। তিনি বলেন, মাউন্ট এলিজাবেথের ডাক্তারদের মতামত তারা ডা. আবু নাসের রিজভীর কাছ থেকে নিয়মিতভাবে জানতে পারছেন। ওবায়দুল কাদেরের সব অর্গান কাজ করছে। সব দিক থেকে তিনি ভালো আছেন। আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ, আশঙ্কামুক্ত। তিনি এখন সংকটাপন্ন অবস্থায় নেই। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তার অবস্থা স্বাভাবিক হবে বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। তারপর তার বাইপাস সার্জারি করা হবে। তিনি দু’এক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ অবস্থায় আমাদের মধ্যে ফিরে আসবেন বলে আমরা আশা করছি।

সাংবাদিক সম্মেলন শেষে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, বাইপাস সার্জারির বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ড এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। শুক্রবারের আগে সেই সিদ্ধান্ত জানা যাবে না। অপরদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘কাদের ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার আরো উন্নতি হয়েছে। হার্টের অবস্থা স্থিতিশীল ও কিডনির অবস্থার উন্নতি হয়েছে। একটু জ্বর এসেছে, যা আশা করা যায় দুই একদিনেই ঠিক হয়ে যাবে। দুই-একদিনের মধ্যে কৃত্রিম শ্বাস ব্যবস্থা খুলে দেওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। সবাই কাদের ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।’