আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শেষ সময়ের প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। উত্সাহ-উদ্দীপনার কমতি না থাকলেও ভোট গ্রহণের সময় নিয়ে অভিযোগ রয়েছে প্রার্থীদের। বিশেষ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি সব সংগঠনই বলছে ডাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণের জন্য মাত্র ছয় ঘণ্টা সময় যথেষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষিত সময় অনুযায়ী ১১ মার্চ সকাল আটটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করার কথা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডাকসু নির্বাচনে এবার ভোটার রয়েছেন ৪৩ হাজার এক জন। এর বিপরীতে ডাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন পদে প্রার্থী রয়েছেন সাতশ ৩৮ জন। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক ভোটার সর্বমোট ৩৮টি করে ভোট দিতে পারবেন।
ছাত্রলীগ বাদে অন্য সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ- ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগকে সুবিধা দিতেই ভোটের জন্য কম সময় বরাদ্দ রেখেছে প্রশাসন। এছাড়া কম সময়ের পেছনে অন্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা। প্রগতিশীল ছাত্র এক্যের প্যানেলে সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ডাকসুর প্রায় অর্ধেক ভোটার হলের বাইরে থাকে। প্রশাসন চাচ্ছে না বাইরের শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে আসুক। বাইরের শিক্ষার্থীরা কম ভোট দিলে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন লাভবান হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, যত বুথই করা হোক না কেন এত অল্প সময়ে এত অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভোটগ্রহণ শেষ করা সম্ভব না। ভোট গ্রহণের সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করার দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছেন স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ আর এম আসিফুর রহমান।
অন্যদিকে ছাত্রলীগের নেতারা বলছেন হিসাব-নিকাশ করেই প্রশাসন ভোট গ্রহণের এই সময় ঠিক করেছে। এর বাইরে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছেন না ছাত্রলীগ নেতারা। ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানও বলছেন- সব কিছু বিচার-বিবেচনা করেই ভোটগ্রহণের সময় ঠিক করা হয়েছে। এছাড়া এখন আর ভোটের সময় বাড়ানো সম্ভব নয়।
একই সাথে গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ মনোনীত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে দুই সদস্যের দলীয় আংশিক প্যানেল ঘোষণা করেছে এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনও পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রকাশ করেছে।
