‘৪ লাখ টাকা নেয়ার জন্যই পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে খুন’

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ২২:১০
 
ওসমানী মিলনায়তনে খুন হওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী বৃদ্ধা জাহানারা বেগমের কোমরে ৪ লাখ টাকা ছিল। সারা জীবন চাকরি করে তিনি নিজের কাছে এই টাকা জমিয়েছিলেন। তার কাছে টাকা থাকার বিষয়টি অনেকেই জানত। আর এ কারণেই টাকার লোভে কেউ তাকে খুন করেছে। জাহানারা বেগমের ছেলে সোলায়মান মাহমুদ পুলিশের কাছে এ অভিযোগ করেছেন।
 
পুলিশ এ হত্যা তদন্তে এখন পর্যন্ত ঘটনার মোটিভ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ওই বৃদ্ধার কাছে কত টাকা ছিল তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওসমানি মিলনায়তনে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকে। এর মধ্যেই কাউকে খুন করে পালানো সহজ নয়। মিলনায়তনের লোকজন তাকে হত্যায় জড়িত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর শাহাবাগ থানাধীন আবদুল গনি রোডের ওসমানী মিলনায়তনের নিচতলায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় জাহানারা বেগমকে (৬০)। তিনি ওই মিলনায়তনের পরিচ্ছন্ন কর্মী ছিলেন।
 
এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে নিহতের ছেলে সালমান মাহমুদ বাদি হয়ে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তবে এজাহারে তিনি কারো নাম উল্লেখ করেননি।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই দেবরাজ চক্রবর্তি বলেন, বৃদ্ধা জাহানারাকে পূর্ব পরিচিত কেউ হত্যা করতে পারে। তিনি সব সময় নিজের কোমরে টাকা রাখতেন। তার কাছে থাকা ওই টাকার খবর ছেলে মেয়েদের পাশাপাশি ওসমানি মিলনায়তনের অনেকেই জানত। তাকে হত্যার পর কোমরে থাকা ওই টাকা পাওয়া যায়নি।
 
তার সন্তানদের দাবি অনুযায়ী, জাহানারার কোমরে চার লাখ টাকা ছিল। তবে এত টাকা না থাকলেও বৃহস্পতিবার তিনি বেতনের টাকা কাছে রেখেছিলেন তার সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের চারপাশে উঁচু দেয়াল প্রাচীর। গেটে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা কর্মী থাকে। এর মধ্যেই তাকে হত্যা করে বের হওয়া কঠিন। সার্বিক অবস্থা প্রমান করে, ওসমানি মিলনায়তনের কেউ না কেউ এ খুনে জড়িত। তদন্তে অনেকগুলো বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।