মিয়ানমারে আগামী নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণে প্রায় ২৫ বছর পর জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার প্রচারণা শুরু করে বিভিন্ন দল।
এই এই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ও রাজনীতিতে আক্ষরিক অর্থে পরিবর্তন আনতে সহযোগিতা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সাং সুকি। আগামী ৮ নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে প্রায় তিন কোটি লোক ভোট দেবে। এদের অধিকাংশই প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছে। এছাড়া বিগত সিকি শতাব্দীর মধ্যে দেশব্যাপী নির্বাচনে এই প্রথম সুকির দল অংশ নিচ্ছে।
গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের দীর্ঘদিনের নেত্রী অং সাং সুকি নির্বাচনের প্রশংসা করে একে মিয়ানমারের জন্যে সন্ধিক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)’র প্রকাশিত ইংরেজি ভাষার এক ভিডিও বার্তায় সুকি বলেন, গত কয়েক দশকের মধ্যে এ প্রথম আমাদের জনগণ সত্যিকার পরিবর্তন আনার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছে। এ সুযোগ আমরা নষ্ট করতে পারি না।
স্থানীয় ভাষায় পৃথক এক বার্তায় সুকি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে ভোট দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তার দল বিশ্বাস করে জন-আকাঙ্ক্ষার মূল শক্তির ভূমিকা পালনে এনএলডি সফল হবে।
পার্লামেন্টের এ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে এনএলডি’র সঙ্গে সেনা সমর্থিত ক্ষমতাসীন ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট পাটির্র (ইউএসডিপি)। তবে আরো ৯০টি দল এতে অংশ নিচ্ছে।
এনএলডি’র এক হাজারে বেশি প্রার্থী প্রতিযোগিতা করছেন, যা সংখ্যায় ইউএসডিপি’র প্রার্থীর চেয়ে কিছু বেশি। তবে সুকি ব্যক্তিগতভাবে এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। কারণ দেশটির জান্তা সরকার প্রণীত সংবিধানে বিধান রাখা হয়, যাদের বিদেশি স্বামী কিংবা স্ত্রী অথবা সন্তান রয়েছে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। সুকির দু’সন্তানই ব্রিটিশ নাগরিক।
মায়ানমারে ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইউএসডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। তবে এনএলডি ওই নির্বাচন বয়কট করেছিল। সূত্র: এএফপি
