প্রত্যেক বিষয়ে রাষ্ট্র লুকোচুরি করছে অভিযোগ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রকে লুকোচুরি খেলা বন্ধ করতে হবে। যেখানে যা ঘটে তা সরাসরি বলতে হবে। জনগণকে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে লুকোচুরি করলে চলবে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত একাডেমির মিলনায়তনে ‘শিশু সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ড. মিজানুর রহমান কার্ল মার্কসের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেন, বৃদ্ধ ও শিশুদের দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। ১৮ বছরের নিচে কোনো শিশুর বিয়ে নয়।
তিনি বলেন, তুরস্কের শিশু আইলান, সিলেটের রাজন ও রাজীবদের ঘটনা যখন মিডিয়ায় প্রকাশ হলো, তখনই আমাদের মানবতার ধার উন্মোচিত হল। আমাদের এ দায়িত্ব প্রতিটি ক্ষণেই থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিশুরা হচ্ছে ভিআইপি। সব ক্ষেত্রেই শিশুরা প্রাধান্য পাবে। শিশুদের বহনকারী ভ্যান গাড়ি এলেই তা নিরাপদে যেতে সাহায্য করবে পুলিশ। কিন্তু আমাদের দেশে এর উল্টো চিত্র। আমাদের মন্ত্রীরা এলে শিশুদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড় করিয়ে অভিনন্দন জানাই। এর চেয়ে লজ্জা আর হতে পারে না। এটা বন্ধ করতে হবে। যে শিশু যেখানে আছে তাকে সেখানেই পড়াশোনার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
মিজানুর রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা সভা-সেমিনারে জবাবদিহীতার কথা বলি। কিন্তু কখনো জবাবদিহীতার নিশ্চিয়তা পাই না। রাষ্ট্র কি শিশু বান্ধব হবে না? শিশুদের দিকে তাকাবে না? মিজানুর রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হককে অনুরোধ করে বলেন, শিশুদের জন্য খেলার মাঠগুলো উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা করুন।
অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচারের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বাংলাদেশ। এটা বন্ধ করতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার। শিশু নির্যাতনকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি শিশু নির্যাতন বাড়িয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, কবি কাজী রোজী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম, শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শিল্পী হাসেম খান প্রমুখ।
