জয়পুরহাট চিনিকলের বিষাক্ত বর্জ্যে নদী-খালের মাছ মারা গেছে

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৯, ২১:৫২

আক্কেলপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া তুলসীগঙ্গা নদী ও শ্রী খালে চিনিকলের বিষাক্ত বর্জ্যে মারা গেছে মাছসহ জলজ অন্যান্য প্রাণী। সেই সাথে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। প্রতিবছর চিনিকলের ওই বর্জ্য ছেড়ে দেয় জয়পুরহাট চিনিকল কর্তৃপক্ষ। আর সেই বর্জ্য শ্রীখাল হয়ে তুলসীগঙ্গা নদীতে এসে নামে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জয়পুরহাট চিনিকলের দূষিত বর্জ্যের পানি প্রথমে জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর ইউপির মরা খালে এসে পড়ছে। সেই দূষিত পানির জন্য শ্রীখালের মাছ ও নদীর মাছ মারা গেছে।

শ্রী খালের পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মোত্তালেব হোসেন বলেন, গত বছরে জয়পুরহাট চিনিকলের বর্জ্যের পানিতে আমাদের সমিতির অর্থায়নে ছেড়ে দেওয়া এক লাখ ১০ হাজার টাকার মাছ মারা গিয়েছিল। চিনিকল কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে মাত্র ত্রিশ হাজার টাকা দিয়েছিল বাকি ৮০ হাজার টাকা আজো আমরা পাইনি।  চিনিকলের বর্জ্যের দূষিত কালো পানির গন্ধে এলাকায় মানুষ খুব কষ্টে জীবন যাপন করছে। 

আওয়ালগাড়ী উত্তর বালু পাড়া গ্রামের ইউনুস আলী বলেন, আমার বাড়ি শ্রী খালের পারে। দিনের বেলা চিনিকলের দূষিত পানির গন্ধ একটু কম হয় আর রাত হলে দুর্গন্ধে বাড়ির ভিতরে থাকা যায় না।

নদীর কূল গ্রামের বাসিন্দা বুলু হোসেন বলেন, প্রতিবছর জয়পুরহাট চিনি কলের দূষিত পানি আমাদের এলাকার ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্রী খালে ছাড়ে। এতে কয়েক মাস আমাদের বাড়িতে থাকতে কষ্ট হয়।

আক্কেলপুর উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম বলেন, চিনিকলের বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে মিশে নদীর মাছসহ জলজপ্রাণী সব মারা গেছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের অফিস থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল। চিনিকল কর্তৃপক্ষ গত বছর আমাদের নিশ্চিত করেছিল যে আর বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে আসবে না। কিন্তু দূর্ভাগ্য হলেও সত্য এ বছরেও নদীতে সেই বিষাক্ত বর্জ্য এসে সব মাছ মরে ভেসে উঠে।

জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএফএম জিয়াউল ফারুক বলেন, চিনিকলের বর্জ্য মিশ্রিত পানি শোধনের জন্য ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কার্যক্রম চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনও এসে দেখে গেছে আমাদের কার্যক্রম।