অপহরণের পর হত্যা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১৫:২৬
মেহেরপুর গাংনী পৌরসভাধীন পূর্ব মালসাদহ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম কাওছার ঢাকায় খুন হয়েছেন। মঙ্গলবার অপহরণের পর শুক্রবার সকালে রাজধানীর খিলক্ষেতের একটি ছয়তলা বাড়ির পঞ্চম তলার ফ্লাটে স্যুটকেসের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকারী সন্দেহে গাংনীর শিশিরপাড়ার ফয়সাল হোসেন ওরফে পেডিকে আটক করেছে পুলিশ। পূর্ব বিরোধের জেরে পেডি তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। 
 
জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন প্রথম আলো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন বিভাগে চাকরির পর ১ সেপ্টেম্বর বণিক বার্তা পত্রিকার সহকারী ম্যানেজার (মার্কেটিং) হিসেবে যোগদান করেন। তিনি পূর্ব মালসাদহ গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। ঢাকার তেজকুনি পাড়ায় নিজ ফ্লাটে স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। 
 
নিহতের পরিবারিক ও খিলক্ষেত থানা সূত্রে জানা গেছে, ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি ঢাকার বাড্ডা এলাকায় যান। সেখান থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। গভীর রাত পর্যন্ত তিনি বাসায় না ফিরলে পরিবারের পক্ষ থেকে অফিসের মাধ্যমে থানায় অবহিত করে। একটি ডিডি করা হয়। ঘটনার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বদ্ধ ছিল। 
 
খিলক্ষেত থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল হক জানান, খিলক্ষেত নামাপাড়ার ওই ভবনের পঞ্চম তলায় পেডির কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে থানায় খবর দেয় ফ্লাটের অন্যান্য বাসিন্দারা। পুলিশ সেখানে গিয়ে একটি স্যুটকেসের মধ্যে জাহাঙ্গীরের লাশ উদ্ধার করে। সকালেই পেডিকে ধামরাই এলাকা থেকে গ্রেফতার করে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পেডির মেসের আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। কৌশলে জাহাঙ্গীরকে অপহরণ করে পেডি তার মেসের কক্ষে নিয়ে আসে বলে জানায় পুলিশ। ওই ভবন থেকে কাওছারের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। 
 
জাহাঙ্গীরের লাশ বর্তমানে খিলক্ষেত থানায় রয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে বলে জানান খিলক্ষেত থানার ওসি। সন্ধ্যার আগেই লাশ নিয়ে স্বজনরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিবেন বলে জানান বণিক বার্তার বার্তা সম্পাদক জিনারুল ইসলাম। 
 
গাংনী থানা সূত্রে জানা গেছে, গাংনী ও মেহেরপুর সদর থানায় পেডির নামে অস্ত্র ও ছিনতাই, ডাকাতিসহ অর্ধ ডজন মামলা রয়েছে। তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। এছাড়াও বান্দরবন থানায় তার নামে হত্যা মামলা রয়েছে।