গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নে ত্রাণের চাল আত্মসাতের ঘটনা ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার চারদিন পেরিয়ে গেলেও শুক্রবার থানায় মামলা হয়নি।
এদিকে ঘটনার বিচার ও কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুন্নবী সরকারকে গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি শাখা এই সমাবেশের আয়োজন করে। সিপিবি কামারজানি শাখার সম্পাদক এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ বক্তব্য রাখেন, জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, সিপিবি জেলা শাখার সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সন্তোষ বর্মন, সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছাদেকুল ইসলাম, দারিয়াপুর অঞ্চল কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
কামারজানি বাজারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অথচ তাদের ত্রাণ না দিয়ে কামারজানি ইউপি চেয়ারম্যান নুরুন্নবী সরকার ৫০ কেজির ১৮ বস্তা ত্রাণের চাল বিতরণ না করে মজুত রাখেন। তিনি ১৫ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ মিরাজল ও নয়া মিয়া ১৮ বস্তা চাল কামারজানি বাজারে বিক্রি করতে যান। এ সময় চালের বস্তায় 'খাদ্য অধিদফতরের জন্য' লেখা দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা ১৮ বস্তা চাল আটক করে। টের পেয়ে গ্রামপুলিশ মিরাজল ও নয়া মিয়া পালিয়ে যান।
বক্তারা আরো বলেন, ঘটনাটি ধরা পরার পর গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) খবর দেওয়া হয়। ইউএনওর নির্দেশে পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে গাইবান্ধা সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে যান। তিনি চালের বস্তাগুলো জব্দ করে স্থানীয় ব্যবসায়ি লুৎফর রহমানের জিম্মায় রাখেন। কিন্তু ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে আটককৃত চালের জব্দ তালিকা করার চারদিন পেরিয়ে গেলেও মামলা হচ্ছে না। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান সমাবেশের বক্তারা। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার ও মামলা দায়ের করে বিচারের দাবি জানান।
এসব বিষয়ে মুঠোফোনে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল মমিন খান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে কি ধারায় মামলা হবে, তা সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হওয়ায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হচ্ছে।
এসব বিষয়ে কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুন্নবী সরকার মুঠোফোনে দাবি করেন, আমি ইউনিয়নের জন্য যে বরাদ্দ পেয়েছি, তা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে বিতরণ করেছি। এ বিষয়ে কিছু জানি না। তিনি আরো বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে গত নির্বাচনে পরাজিত আমার প্রতিপক্ষ এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
