টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে মা ও ছেলেকে দিগম্বর করার ঘটনার প্রতিবাদে করা বিক্ষোভে পুলিশের শতাধিক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় ২ জন নিহত ও ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আহত হয়েছে ৩০ জন। নিহতরা হল ঘাটাইল উপজেলা সালেংকা গ্রামের শামীম ও কালিহাতী কুষ্টিয়া গ্রামের ফারুক হোসেন। এ সময় টাঙ্গাইল- ময়মনসিংহ মহাসড়কে ৬ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর কালিহাতি উপজেলার সাতুটিয়া গ্রামের শ্রমিক নেতা হাফিজুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম রোমা ঘাটাইল উপজেলার নুরুল ইসলামের ছেলে আল আমিনকে তার বাড়িতে ঢেকে নেয়। তারা দাবি করে আল আমিনের সঙ্গে রোমার স্ত্রীর সম্পর্ক আছে। এই অজুহাতে তাকে আটকে রাখে পরে তার মা ছাহেরাকে ডেকে নিয়ে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দিগম্বর করে ঘরে আটকে রাখা হয়। হাফিজুর ও রোমা মা ও ছেলেকে অশ্লীল কাজ করতে বাধ্য করে।
এ ঘটনার খবর পেয়ে গ্রামবাসী পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে এই দিনই ছালেহা বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তার পর থেকেই গত দুই দিন যাবৎ হাজার হাজার নারী পুরুষ এলকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। মামলার দুই আসামি হাফিজুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম রোমাকে গ্রেফতার করেও পুলিশ ঘটনা নিয়ন্ত্রনে আনতে পারেনি। নির্যাতিত মা ও ছেলে ঘাটাইল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর কালিহাতীতে মা ও ছেলেকে দিগম্ভর করার ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকালে ঘাটাইলের হামিদপুরে প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করে। কালিহাতি ও ঘাটাইল উপজেলার সহস্রাধিক জনতা বিক্ষোভ মিছিল করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয় । এ সময় উত্তেজিত জনতা এক এসআই সহ পাঁচ পুলিশকে আটকে রেখে মারপিট করে। পরে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে শতাধিক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় ২ জন নিহত ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আহত হয়েছে ৩০ জন।
গুলিৃবদ্ধরা হল কালিহাতি উপজেলার শ্যামল, রুবেল ,অঞ্জলী পাল, বাদশা ও ঘাটাইলের শামীম। গুলিবিদ্ধ কালিহাতি উপজেলার কষ্টিয়া গ্রামের সানুমিয়ার ছেলে ফারুক ও ঘাটাইল উপজেলার সালেংকা গ্রামের আলহাজের ছেলে শামীম কালিহাতী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধা ছয়টায় মারা যায়। প্রায় ৬ ঘণ্টা ঘাটাইল ও কালিহাতি উপজেলার জনতার সঙ্গে পুলিশের থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়। এ সময় টাঙ্গাইল- ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে । রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধা রয়েছে । গুলিবিদ্ধ পাঁচজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
