ভারতে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার, ঝুঁকিতে ঢাকা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০০:১৫

ভারতের দিল্লিতে ডেঙ্গু জ্বরে নতুন করে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২০। রোগীদের স্থান সংকুলানে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। সরকারি অনেক হাসপাতালেই একটি শয্যার বিপরীতে রোগীর সংখ্যা তিন থেকে চার জন।

 
পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করতে বলেছে দিল্লি সরকার। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত চিকিত্সক ও নার্স নিয়োগেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও বাড়তি সেবা দানে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
 
হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই-এমন রোগী ভর্তি না করারও আহ্বান জানিয়েছে রাজ্য সরকার। পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে রয়েছে দিল্লির ডেঙ্গু পরিস্থিতি। ভারতের সরকারি হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৮৭২ জনের রক্তে ডেঙ্গু জীবাণু পাওয়া গেছে।
 
এ অবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কোন রোগীকে যেন ফিরিয়ে দেয়া না হয় সে ব্যাপারে কড়া নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এছাড়াও চব্বিশ ঘণ্টা হেল্প লাইন চালু করা হয়েছে জনগণকে ডেঙ্গু বিষয়ক তথ্য ও সেবা প্রদানের জন্য। এছাড়া পাকিস্তানেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয় বলে জানা গেছে।
 
এদিকে বাংলাদেশও ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে। এবছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে ৭২৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে গতকাল পর্যন্ত ৪৩৭ জনের ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এটি রেকর্ড সংখ্যক। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা: মাহমুদুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এবছর ঘনবৃষ্টির ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। এটি সরকারি হাসপাতালের তথ্য। বেসরকারি হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী, গত তিন মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। চিকিত্সকদের চেম্বারে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।  
 
বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, ডেঙ্গু এক ধরনের ভাইরাসজনিত রোগ। বর্ষা মৌসুমে বদ্ধ পানিতে এডিস মশার বংশ বিস্তার হয়।এই মশার কামড়েই ডেঙ্গু ছড়ায়। সাধারণত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা গেলেও আবহাওয়াজনিত কারণে মৌসুম দীর্ঘায়িত হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত যেতে পারে।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর লক্ষণ হল কাঁপুনি দিয়ে হঠাত্ উচ্চমাত্রার জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা, পিঠে ব্যথা, দাঁতে রক্তক্ষরণ, বমির সঙ্গে রক্তক্ষরণ, পায়খানার সঙ্গে রক্তক্ষরণ কিংবা শরীরের যেকোন অংশ দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা গেলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।
 
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, সাধারণত এডিস মশার ভাইরাসের কারণে ডেঙ্গু জ্বর হয়। একবার ডেঙ্গু হলে পরবর্তী চারবার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা উপযুক্ত চিকিত্সায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর সুস্থ হয়ে উঠে।
 
সাধারণত প্যারাসিটামলেই রোগটি ভালো হয়। কিছুতেই অ্যাসপিরিন, ভল্টারিন জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ানো চলবে না। ব্যবহার করলে মৃত্যু দ্রুত নিশ্চিত হয়। এছাড়া এন্টিবায়েটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সাবধান হতে হবে। এন্টিবায়োটিক খাওয়ালে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রচুর পানি, শরবত, লেবুর রস, ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন ও ফলের রস খাওয়ানোর কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া ৪/৫ দিনের মধ্যে জ্বর না কমলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।
 

জানা যায়, পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। তাই কোথাও পাঁচ দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেয়া উচিত নয়। যেহেতু এটি একটি মশাবাহিত রোগ, সেহেতু মশার বংশবৃদ্ধি রোধ, নিধন ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঘরবাড়ির চারপাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ক্যান, টিনের কৌটা, মাটির পাত্র, বোতল, নারকেলের খোসা জাতীয় পানি ধারণ করতে পারে এমন পাত্র ধ্বংস করে ফেলতে হবে। ঘরের আঙিনা, ফুলের টব, বারান্দা, বাথরুম, ফ্রিজের নিচে ও এসির নিচে জমানো পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। যাতে মশা বংশবৃদ্ধি করতে না পারে। দিনের বেলায় এডিস মশা কামড়ায় বলে দিনের বেলাতেও মশারির নিচে ঘুমানো উচিত।