চট্টগ্রামে ইয়াবা ব্যবসা ৫ জনের নিয়ন্ত্রণে

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০১:৩৬

নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবায় ছেয়ে গেছে চট্টগ্রাম। নগরীর আনাচে কানাচে হাত বাড়ালেই মিলছে ভয়াবহ এই পণ্যটি। আর চট্টগ্রামে ইয়াবার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে পাঁচ ব্যবসায়ী। অধিকাংশ ব্যবসায়ী কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী টেকনাফভিত্তিক হলেও এই পাঁচজন পুরো চট্টগ্রামের ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।

 
সিএমপির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যবসায়ী হলো নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের কানা মঞ্জু ও দিদার, পটিয়ার চান মিয়া, টেকনাফের আফসার ও মোহাম্মদ হোসাইন। এদের মধ্যে চান মিয়া বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। বাকি চার রাঘব বোয়াল ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চান মিয়া বিনিয়োগকারী হিসেবে ওয়াহিদ নামে একজনের নাম প্রকাশ করেছে। কিছুদিন আগে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আলো ও জাফর নামে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়। তবে নিহত দুইজন মূলত বিনিয়োগকারী ছিল বলে পুলিশ জানায়।
 
চট্টগ্রামে ইয়াবার বিস্তার ঠেকাতে পুলিশের অভিযান চলছে। তবে পুলিশের অভিযানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ইয়াবার কেনাবেচা। জানা গেছে, পাঁচ রাঘব বোয়ালের অধীনে শতাধিক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা রয়েছে। এমনকি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। সামান্য পান বিক্রেতা, সিএনজি অটোরিকশা চালক, ফার্মেসিসহ সর্বত্রই ইয়াবা পাওয়া যায়।
 
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য ইত্তেফাককে বলেন, ইয়াবার বিস্তার নগরীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্যবসায় নেমে পড়েছে। চট্টগ্রামকে ইয়াবা ব্যবসার ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে হেরোইন ও ফেনসিডিলের ব্যবহার কমলেও ইয়াবার ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
 
প্রতিদিন কর্নফুলী সেতু হয়ে চট্টগ্রামে ইয়াবার চালান প্রবেশ করছে। কর্নফুলী সেতু এলাকায় ইয়াবা উদ্ধার এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন কায়দা ও কৌশল অবলম্বন করে ইয়াবা বহন করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে দুই পা-বিহীন এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর পায়ুপথ থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, পঙ্গু হলেও ওই ব্যক্তি একজন বড় মাপের ইয়াবা ব্যবসায়ী।
 
বাকলিয়া থানার ওসি মো. মহসিন ইত্তেফাককে বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বর্তমানে রুট পরিবর্তন করে সমুদ্রপথে ইয়াবা আনছে। এজন্য মাছ ধরার ট্রলার ব্যবহার করা হচ্ছে।
 
ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. তানভীর আরাফাত ইত্তেফাককে বলেন, ইয়াবার বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের কারণে বর্তমানে শহরের চিহ্নিত মাদক স্পটগুলো আর নেই। তবে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের উপদ্রব বেড়েছে।
 

চট্টগ্রাম মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দীন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমানে যেসব মামলা দায়ের হচ্ছে তার ৬০ শতাংশই মাদক সংক্রান্ত। দৈনিক ৪০ থেকে ৫০টি মাদক মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে। ইয়াবা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা রয়েছে।