দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ যাত্রী জিম্মি

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০২:২৯

নৌপথনির্ভর দক্ষিণাঞ্চলের সর্বত্র চলছে লঞ্চের রোটেশন প্রথা। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৫ জেলা থেকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যাতায়াতের অন্যতম উপায় লঞ্চ। কিন্তু সরকারি নিয়ম ভেঙে কথিত রোটেশন প্রথার মাধ্যমে লঞ্চ চালাচ্ছেন ক্ষমতাধর মালিকরা। এক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞাও মানা হচ্ছে না। ফলে লঞ্চ মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতার কাছে জিম্মি হয়ে আছে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষ। বিশেষ করে ঈদে ঘরে ফেরা লাখ লাখ যাত্রী এই রোটেশন প্রথায় চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

 
২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে লোকসানের অজুহাত তুলে হঠাত্ করেই ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে রোটেশন পদ্ধতি চালু করে লঞ্চ চালাতে শুরু করেন মালিকরা। বিআইডব্লিউটিএর সিডিউল অনুযায়ী ঢাকা-বরিশাল এবং বরিশাল-ঢাকা উভয় প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ১৩টি লঞ্চ চলাচলের নিয়ম থাকলেও ওই রোটেশন প্রথায় প্রতিদিন চলাচল করছে মাত্র ৬টি লঞ্চ। ফলে ঢাকা-বরিশাল নৌপথের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
 
দক্ষিণের অন্যতম পটুয়াখালী জেলা নৌবন্দর থেকে প্রতিদিন ঢাকা ও পটুয়াখালী প্রান্ত থেকে ৫টি করে লঞ্চ চলাচলের কথা। কিন্তু বছর দুই আগে পটুয়াখালী-ঢাকা রুটেও শুরু হয়েছে রোটেশন প্রথা। আন্দোলনের মুখে লঞ্চ মালিকরা রোটেশন প্রথা কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখলেও আবার চালু করে। সে অবস্থা এখনও বিরাজ করছে।
 
পটুয়াখালী বন্দরের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লঞ্চ চলাচল করায় যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বার বার লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে রোটেশন বাতিলের বিষয়ে কথা বলে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। এদিকে পটুয়াখালী জেলার অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র কলাপাড়ায় এক বছর ধরে যাচ্ছে না ঢাকাগামী লঞ্চ। জেলার গলাচিপা ও রাঙ্গাবালি স্টেশন থেকে দুটির পরিবর্তে এখন একটি করে লঞ্চ যাচ্ছে ঢাকায়। অথচ ওই দুই স্টেশন থেকে সারা বছর ধান, আলু, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন হয়। একটি করে লঞ্চ চলাচল করায় ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
 
বরগুনা বন্দর থেকে আগে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যেত দুটি লঞ্চ। কিন্তু গত দুই বছর ধরে একটি করে লঞ্চ চলাচল করছে। সাগরঘেঁষা জনপদ পাথরঘাটা ও আমতলী থেকেও চলছে একটি করে লঞ্চ। প্রসিদ্ধ বাণিজ্যকেন্দ্র ঝালকাঠি থেকে ২ বছর ধরে দুটির পরিবর্তে একটি করে লঞ্চ চলাচল করছে।
 
দ্বীপজেলা ভোলার লঞ্চযাত্রীরা ঝড়-ঝঞ্ঝার মৌসুমে জীবন বাজি রেখে লঞ্চে যাতায়াত করেন। ভোলা লঞ্চ স্টেশনে বিআইডব্লিউটিএর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। ঘাট চালান ইজারাদাররা। আগে ভোলা ঘাট থেকে তিনটি লঞ্চ চলত। জেলার বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলা স্টেশন থেকে কোনোদিন ঢাকাগামী লঞ্চ থাকে আবার কোনোদিন থাকে না। এমনই এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী নৌরুটগুলোতে।
 

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক ইত্তেফাককে বলেন, রোটেশন প্রথায় যাত্রী হয়রানি ও যাত্রী দুর্ভোগ বাড়ছে।