সীমান্ত পথে গরু আসায় আসন্ন ঈদুল আজহায় কমছে কুরবানির পশু সঙ্কটের আশঙ্কা। ভারত- বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে আসছে গরু। দূর হচ্ছে সঙ্কট।
ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার গরু- মহিষ আমদানি বেড়েছে। সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে বিজিবি শক্ত অবস্থানে থাকায় আমদানি করা গরু- মহিষ থেকে ইসলামপুর শুল্ক করিডোরে রাজস্ব আদায় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইসলামপুর শুল্ক করিডোর কার্যালয় সূত্র জানায়, বিগত ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে ৯ হাজার ৩০২টি গরু- মহিষ আমদানি হওয়ায় রাজস্ব আয় হয়েছে ৪৬ লাখ ৫১ হাজার টাকা। অপরদিকে গত ২০১৪- ২০১৫ অর্থবছরে ১২ হাজার ৫৫৮ টি গরু- মহিষ আমদানি হয়, যা থেকে ৬৩ লাখ ৩ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। ২০১৩- ২০১৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ৩ হাজার ২৫৬টি গরু-মহিষ বেশি আমদানি হওয়ায় ১৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা বেশি রাজস্ব হয়েছে।
এদিকে ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে উভয় দেশের গরু ব্যবসায়ীরা সীমান্ত পথে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেশি গরু- মহিষ আমদানি করছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৩- ২০১৪ অর্থবছরের জুলাই-আগষ্ট মাসে ২ হাজার ৬৭০টি গরু- মহিষ আমদানি করা হয়। ২০১৪- ২০১৫ অর্থবছরের জুলাই- আগষ্ট মাসে ৭০৪টি গরু আমদানি করা হয়। অথচ গত ২০১৪- ২০১৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৫- ২০১৬ অর্থবছরে জুলাই-আগষ্ট মাসে ৩ হাজার ৬৩৮টি গরু- মহিষ আমদানি হয়েছে। গত ঈদ-উল-আযহার তুলনায় এবার প্রায় ৫ গুণ বেশি গরু- মহিষ আমদানি হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট পাটগ্রাম পৌরসভার রসুলগঞ্জ। সপ্তাহে দুই দিন রবি ও বৃহস্পতিবার স্থানীয় এ হাট গুলোতে অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর ঈদ-উল-আযহার এ রকম সময়ে অনেক বেশি গরু- মহিষ আমদানি হতে দেখা যাচ্ছে। এসব গরু- মহিষ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে। ঈদ-উল- আযহায় এবার গরু- মহিষ সংকট নেই বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যবসায়ী দাবি করেন।
স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী জলিল হোসেন বলেন, ‘প্রথম দিকে অনেকে মনে করেছিল গরুর সঙ্কট দেখা দিবে। এখন যে হারে গরু আসছে তাতে সঙ্কট আর নেই। দামও ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে।’ অপর ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান, আকবার আলী বলেন, ‘বিজিবি’র তদারকির ফলে আগের তুলনায় বর্তমানে গরু- মহিষ আমদানির ক্ষেত্রে শতভাগ করিডোর ফি নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
লালমনিরহাটের ইসলামপুর করিডোরের দায়িত্বে থাকা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাকে একাই ইসলামপুর শুল্ক করিডোর, পাটগ্রাম শুল্ক গুদাম ও পাটগ্রাম ভ্যাট সার্কেল সামলাতে হয়। এরপরও রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ অব্যাহত রয়েছে।’
রংপুর বিভাগীয় কাস্টমস কমিশনার মুজিবুর রহমান ইসলামপুর শুল্ক করিডোরে জনবল সংকট রয়েছে স্বীকার করে বলেন, ‘লালমনিরহাটের বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা গরু- মহিষ থেকে ইসলামপুর শুল্ক করিডোর সন্তোষজনক রাজস্ব আয় করছে।’
