চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটক টানতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তারা আশা করছে, বৃৃহত্তর চট্টগ্রাম আগামী দুই বছরের মধ্যেই পরিণত হবে আন্তর্জাতিক মানের একটি পর্যটন অঞ্চলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়ন, নগরীর জলাবদ্ধতা দূরসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ছাড়া চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
এ প্রসঙ্গে ট্যুরিজম বোর্ডের সদস্য মনোয়ারা হাকিম আলী ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অঞ্চলে পরিণত করতে অভাবনীয় কার্যক্রম চালাচ্ছে সরকার। সেই সাথে গড়ে উঠতে যাচ্ছে আনোয়ারা, মিরসরাইসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। তিনি বলেন, ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করায় সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। অক্টোবরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও পর্যটন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং প্রদেশ পর্যন্ত ট্রান্স-এশিয়ান রেল সংযোগ স্থাপন এবং মিয়ানমার পর্যন্ত সড়ক পথ সমপ্রসারণ করে পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর সাথে পর্যটন ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ শিগগিরই হচ্ছে। সেই সাথে সরকার মনোযোগ দিয়েছে পর্যটকদের দর্শনীয় স্থান বা হেরিটেজ সমূহ রক্ষায়। তার মতে সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন দেশের পর্যটন শিল্প গার্মেন্টস শিল্প থেকেও বেশি আয় করবে। সামগ্রিক সাফল্যের জন্য সরকার প্রাইভেট-পাবলিক যৌথ উদ্যোগের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অঞ্চলে পরিণত করতে চারটি বিষয়ের উপর জোর দেয়া দরকার। এগুলো হলো উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল সংযোগ দ্রুত বাস্তবায়ন, চট্টগ্রামে আরো কয়েকটি পাঁচতারা হোটেল স্থাপন, কর্নফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে দ্রুত সময়ে টানেল স্থাপন এবং চট্টগ্রামের পুরাকীর্তি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর বনাঞ্চল, পাহাড় এবং সমুদ্রের নির্মল স্বাস্থ্যকর পরিবেশ রক্ষায় কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি।
