যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বর্ণি গ্রামের কলেজ ছাত্র মোস্তফা কবীরকে (২২) হত্যার দায়ে ১৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
রবিবার বিকালে খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এম এ রব হাওলাদার এ রায় ঘোষণা করেন। মোস্তফা ঝিকরগাছা শহীদ মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আব্দুল গফুর, আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের মেম্বর, মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, হাসানুজ্জামান ওরফে হাসান, আব্দুল জব্বার, ফারুক ওরফে ট্যারা ফারুক, বিল্লাল হোসেন, হাসানুজ্জামান ওরফে হাসান-২, আলতাফ হোসেন, সুজাত আলী ওরফে সুজাত হোসেন, আজিম, শহীদ মির্জা তপু, সুলতান আহমেদ ভূইয়া ওরফে হাতকাটা ভুইয়া, মোতাকাব্বির ওরফে কুব্বার ও মারুফ। দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই ঝিকরগাছা উপজেলার বর্ণি গ্রামের বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর বর্ণি গ্রামের দক্ষিণ মাঠে ইরি ধানের জমিতে সেচ দেয়াকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মোস্তফা কবীর সঙ্গে ওই এলাকার কয়েকজনের বাক্বিতণ্ডা হয়। এ সময় তারা মোস্তফাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর সকাল আটটার দিকে মোস্তফা তার দুই ফুফাতো ভাই জহুরুল ও বুলবুলকে নিয়ে বাড়ি থেকে নারাঙ্গালী বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। বাজারের পূর্ব দিকে বিল্লালের দোকানের কাছে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে তাদের ধাওয়া করে।
কিছুদূর যাওয়ার পর সন্ত্রাসীরা মোস্তফাকে ধরে কুপিয়ে ও জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী ও স্বজনেরা উদ্ধার করে যশোরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করানোর কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় মোস্তফার চাচা গাজী মো. রফিকুল ইসলাম ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে ২০০৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবর রহমান ২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর যশোরের আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ৫ মার্চ চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যায়।
