মেঘনায় ইলিশের আকাল

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ২৩:৪৪

চলতি বছরের ভরা মৌসুমেও মেঘনা নদীতে ইলিশের আকাল চলছে। জেলেরা নদীতে যে পরিমাণ ইলিশ পাচ্ছে তাতে তাদের মাছ ধরার খরচও উঠে আসছে না। ক্রমাগত লোকসান দিয়ে ঋণগ্রস্ত বহু জেলে হতাশ হয়ে তাদের জাল-নৌকা নিয়ে নদী থেকে চলে আসছেন।

 
গত জাটকা মৌসুমে ও প্রজননকালীন সময় বেপরোয়াভাবে জাটকা (বাচ্চা ইলিশ) ও ডিমওয়ালা মা ইলিশ নিধনই এ সংকটের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা মত্স্যজীবী ফেডারেশনের সভাপতি মোস্তফা বেপারীসহ কয়েকজন জেলে ও মত্স্য ব্যবসায়ী।
 
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইলিশের স্বাভাবিক উত্পাদন বজায় রাখার লক্ষ্যে নভেম্বর হতে জুন পর্যন্ত টানা ৮ মাস মেঘনা নদীতে সরকারি সিদ্ধান্তে জাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচি থাকে। এরমধ্যে মার্চ-এপ্রিল ২ মাস নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। একইভাবে ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য প্রতি বছর আশ্বিন মাসের ভরা পূর্ণিমার সময় ১১ দিন মেঘনায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এ বছর থেকে তা ৪ দিন বাড়িয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে।
 
জানা গেছে, জাটকা ও মা ইলিশ নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় পর্যায় ছাড়াও জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। কিন্তু লোকবল ও যানবাহনের অভাবে তদারকি অনেকটাই দুর্বল। ফলে গত ২ মৌসুমে এক শ্রেণীর জেলের হাতে বিপুল পরিমাণ জাটকা ও মা ইলিশ ধরা পড়েছে। যার খুবই সামান্য পরিমাণ টাস্কফোর্সের অভিযানে আটক করা গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
 

জেলা মত্স্য অফিস সূত্র জানায়, অভিযান পরিচালনার জন্য মত্স্য বিভাগের নিজস্ব কোন নৌযান নেই। রায়পুর, লক্ষ্মীপুর সদর ও রামগতি উপজেলার মত্স্য কর্মকর্তার পদ শূন্য। লোকবল ও যানবাহনের অভাবে প্রতিরোধ কর্মসূচি পালন ব্যাহত হয়। তবে এবার ২৫ সেপ্টেম্বর হতে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন চলাকালীন সময় মা ইলিশ রক্ষায় প্রয়োজীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা মত্স্য কর্মকর্তা এসএম মহিব উল্যা।