‘ভারতীয় গরু আসা বন্ধ’ এই কথা বাজারে চলমান থাকলেও ভারতীয় গরুর আমাদানি চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে গরু আসার তথ্য বিজিবি’র খাতায়ও নেই। কিন্তু ভারতীয় গরুতে সয়লাব হচ্ছে বিভিন্ন বাজার। এদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আযহা উদযাপনের লক্ষ্যে জেলায় কোরবানির পশুর হাট-বাজারগুলোতে শেষ সময়ের কেনা-বেচা জমে উঠেছে।
জেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে জানা গেছে, সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত গরু উঠেছে বাজারগুলোতে। জেলার নতুনহাট, জামালগঞ্জ, পাঁচবিবি, দুর্গাদহ কোরবানির পশুরহাট ঘুরে দেখা গেছে, সামর্থ্য অনুযায়ী ক্রেতারা তাদের গরু-ছাগল কিনছেন।
বুলুপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম ২৫ হাজার টাকায় মাঝারি ওজনের একটি গরু কিনেছেন। বাজারে ১১০ থেকে ১২০ কেজি মাংস হবে এমন গরু বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকায়। জেলার আক্কেলপুর উপজেলার মিঠাপুকুর গ্রামের খামারী আজিজুল ইসলাম গরুর দাম হাঁকছেন ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাজারের সেরা গরু এটি। শহরের নতুনহাটে ওঠা ওই গরুটির ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম করছেন ক্রেতারা। গরুর পাশাপাশি ছাগলও বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ কেজি মাংস হবে এমন ছাগল ৭ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে। জাল টাকা শনাক্ত করণের জন্য বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মেশিন বসানো হয়েছে। গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রাণিসম্পদ দপ্তরের লোকজন সার্বক্ষণিক ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাজারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় হাট কমিটির পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারীও রয়েছে হাটবাজারের প্রতি।
বাজারগুলোতে দেশীয় গরুর পাশাপাশি ভারতীয় গরুর আমদানি চোখে পড়ার মতো। দেশের অন্যান্য জেলা বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে আগত ব্যবসায়ীরা গরু কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান স্থানিয় ব্যবসায়ীরা।
ভারতীয় গরুর বিষয়ে জয়পুরহাট-৩ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পরিচালক মেজর নাসির ইমাম রুমি বলেন, জয়পুরহাটে কোনো কড়িডোর নাই। বিজিবি’র কড়া নজরদারী রয়েছে সীমান্ত এলাকায়। ফলে এই পথে গরু আসার প্রশ্ন ওঠেনা। সীমান্ত এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখাতে গরু ব্যবসায়ীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
