জিয়ানগরে শিক্ষকের বহিস্কার দাবিতে প্রতিবাদ

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১৪:৪২
পিরোজপুরের জিয়ানগরে সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লীল আচরন করে ও কুপ্রস্তাব দেয়। ঘটনার পরের দিন ওই ছাত্রীর মা সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
 
রবিবার সকাল ১০ টার দিকে ওই শিক্ষককে বহিস্কার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে বৃষ্টির মধ্যে নগ্ন পায়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে নেমে প্রতিবাদ জানায় ছাত্রীরা। এ সময় ওই ছাত্রীরা কাগজে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ মূলক শ্রোগান লিখে বুকে ধারণ করে। এমনকি তারা প্রতিটি শ্রেণি কক্ষের ব্লাক বোর্ডে ‘আমাদের দাবি মানতে হবে শহিদুল স্যারের বিচার চাই’ লিখে রাখে। 
 
সোমবার সরেজমিনে  দেখা যায়, সব শ্রেণির ছাত্রীরা শিক্ষকের দৃষ্টান্ত মূলক বিচারের দাবি জানায়। ক্লাশ চলাকালীন সময়েও তারা নতুন করে প্রতি শ্রেণি কক্ষে ব্লাক বোর্ডে 'শিক্ষকের বিচার চাই, যৌন হয়রানি থেকে মুক্তি চাই' শ্লোগান লিখে রাখে। 
 
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির পরে অভিযুক্ত শিক্ষক উপজেলার শহিদ ফজলুল হক মনি সেতুর উপরে বৃষ্টির মধ্যে ওই ছাত্রীর ছাতার নিচে আশ্রয় নেন। ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লিল আচরন করে ও কুপ্রস্তাব দেয়।
 
অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি এক সভায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল কবির স্বপন বলেন, 'আমরা বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে একটি সভা করেছি। সভায় দাতা সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকরামুল কবির মজনুকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'
 
তদন্ত কমিটির প্রধান সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ইকরামুল কবির মজনু বলেন, 'যেহেতু আগেও শহিদুলের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। তাই আমরা বিষয়টি কঠোর ভাবে দেখছি। তাকে বহিস্কারের বিষয়ে আমি একমত। তিনি থাকলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।'  
 
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, 'আমি বৃষ্টির মধ্যে ওই ছাত্রীর ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়ে ছিলাম। কিন্তু তাকে কোনো কুপ্রস্তাব দেইনি এবং অশ্লীল আচরনও করিনি।