ঢাকার পাসপোর্ট অফিসে ধাপে ধাপে ভোগান্তি

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৯, ২২:৫৮

পাসপোর্ট অফিসে দালালের দৌরাত্ম্য কমলেও কমেনি পাসপোর্ট আবেদনকারীদের হয়রানি। ভোগান্তি ছাড়া পাসপোর্ট পাওয়া যেন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাসপোর্ট প্রাপ্তির প্রতিটি ধাপেই পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। অতিরিক্ত জরুরি ফি দিয়ে দুই মাসেও মিলছে না পাসপোর্ট। প্রতিদিনই অপেক্ষায় থাকতে হয়- কখন হাতে পাওয়া যাবে পাসপোর্ট। কিন্তু বেঁধে দেয়া নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও তা পাচ্ছেন না আবেদনকারীরা। কয়েকজন আবেদনকারী জানান, ৩০ দিনের মধ্যে যে পাসপোর্ট পাওয়ার কথা সেটা হাতে পাচ্ছেন দুই মাসের মাথায়। দুই সপ্তাহের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়ার কথা থাকলেও এক মাসেও মেলে না। কারো কারো ক্ষেত্রে সময় এর চেয়েও বেশি লেগে যাচ্ছে। পাসপোর্ট প্রত্যাশী ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগীদের একজন জেবুননেছা জামান রুনা জানান, তিনি গত ২০ জানুয়ারি জরুরি ফি জমা দিয়ে পাসপোর্টের জন্য ঢাকার পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করেন। তাকে বলা হয় ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে। অথচ তার পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশনই শুরু হয় ১০ ফেব্রুয়ারি। এরপর পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এসবি থেকে পাসপোর্ট অফিসে পাঠানো হয়। অথচ আজ পর্যন্ত তার পাসপোর্টটি তিনি পাননি। এ ব্যাপারগুলো নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি চরম হয়রানির শিকার হন। এক কর্মকর্তা আরেক কর্মকর্তার কাছে তাকে পাঠাতে থাকেন। এভাবে অন্তত ২০ জন কর্মকর্তার দ্বার পেড়িয়ে অবশেষে তিনি পাসপোর্ট অফিসের ৭০২ নম্বর কক্ষে যান। সেটি পাসপোর্ট অফিসের এসবি সংশ্লিষ্ট সেকশন। সেখানে গেলে তাকে বলা হয়, তার পাসপোর্টের কাগজপত্র ২৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত শাখায় পাঠিয়ে দিয়েছে এসবি সেকশন। এরপর তিনি চূড়ান্ত শাখায় (৬০৫ নম্বর কক্ষে) খোঁজ নিয়ে জানেন, ওই শাখায় তার সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। তিনি আবার ৭০২ নম্বর কক্ষে গিয়ে খোঁজ নেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে চূড়ান্ত শাখায় তার নথিপত্র পাঠানোর ডেসপাস রিপোর্ট দেখান। এখন তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন। কবে পাসপোর্ট পাবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।