ফেনী প্রতিনিধি ফেনীতে মক্কার মিনায় পদদলিত হয়ে নিহতদের মধ্যে পারিবারিক সুত্রে চারজন নিহত ও পাঁচজন নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।
হজ শেষ করে বাবা বাড়ী ফিরবেন। যমযম কুপের পানি নিয়ে আসবেন সে পানি পান করার আশা নিয়ে পথ চেয়ে আছে নুসরাত,তানিম আর ফাহিম। কিন্তু এখন বাবার ফেরা নিয়ে চরম উদ্ভেগ আর উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছে তিন ভাই-বোন। কারণ মিনায় পদদলিত হওয়ায় ঘটনায় তাদের বাবাযে এখনও নিখোঁজ।
বলছি ফেনী পাইলট হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেমের তিন সন্তানের কথা । এখনও কোন খোজ না পাওয়ায় তার পরিবারে সবার আহাজারিতে কেপে উঠছে শহরের ডাক্তার বাড়ার তার ভাড়া বাড়ী ।
সন্তানদের একটাই আসা তাদের বাবাকে এনে দেবে কেউ। একাদশ শ্রেনীতে পড়–য়া মেয়ে নুসরাত বলেন, আমার বাবার কোন খোজ আপনারা এনে দিতে পারবেন ? আবার ছোট ভাইয়েরা বাবার জন্য আজ দুদিন উপোশ।
IMG0
স্বামীর কোন খোঁজ না পেয়ে আজ তিন দিন দানা পানিও পড়েনি স্ত্রী হাসিনা আক্তারের পেটে । তারও একটাই চাহিদা । সরকার কিংবা কোন গনমাধ্যম যদি তার স্বামীর খবর এনে দিত ।
একই অবস্থা শহরের খাজুরিয়া এলাকায় নুরুল হুদা দুলালের বাসাও। তিনি নিখোঁজ কয়েছেন মিনায় পদদলিত হওয়ার ঘটনায়। নুরুল হুদার বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছেলে নাজমুল হুদা নিরব জানান, তারা চরম উঃকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছে। কেউ তার বাবার খোজ দিতে পারছেনা। তার মা আজ দিন না খেয়ে আছে। ছোট ভাই নিভিড়, নিতুলের চোখের পানি মুছে দেয়ার কোন সংবাদ তার কাছে নেই । নিরবেরও একটাই বাদী বাংলাদেশ সরকার তার বাবার েেখাজ এনে দিবে। যদি মৃত্যু সংবাদও পেত তাহলেও একটা সান্তনা দিতে পারত ছোট ভাইদের। নুরুল হুদার পরিবার মৃত্যু শোকে কাঁদতেও পারছেনা । কারণ সে তথ্যও যে তাদের কাছে নেই, পথ চেয়ে খোজের উপেক্ষা ছাড়া তাদের আর কোন উপায় নেই ।
IMG1
মিনায় পদদলিত হওয়ার ঘটনায় এ পর্যন্ত নিখোঁজ আছেন ফেনীর ৫ জন। এরা হলো ফেনী পাইলট হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেম, শহরের ট্রাংক রোড়ের ওষুধ ব্যবসায়ী খাঝুরিয়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরুল হুদা দুলাল, জেলার সোনাগাজী চর ঘনেশ এলাকার গনেশ এলাকার বিবি ফাতেমা আক্তার, একই উপজেলার সুজাপুর শুয়াখালী এলাকার আমিনুল ইসলাম, ফেনী সদরের বালুয়া চৌমুহনী এলাকার জয়নব বিবি।
এ ছাড়াও নিহত হয়েছেন সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের কলিম উদ্দিন মুন্সি বাড়ির নুরন্নবী মিন্টু (৬৯) ও একই উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের শুলাখালি গ্রামের তাহেরা বেগম (৭৩), একই উপজেলার শুয়াখারী গ্রামের বেলায়েত হোসেনের স্ত্রী নুর জাহান, পরশুরাম উপজেলার চিথলীয়া জয়নাল আবদীনের স্ত্রী খালেদা আক্তার। নিহতদের পরিবার এ তথ্য নিশ্চিতি করেন।
নিহত সোনাগাজীর তাহেরার ছেলে জানান, তার মা হজ্জ করতে যায় মিনায় পদদলিত হয়ে নিহত হওয়া তাদের কোন আপচোস নেই । পবিত্র জায়গান গিয়ে মা মারা গেছে। আল্লাহর কাঝে তার মায়ের জন্য জান্নাত কামনা করেছেন ।
নিখোঁজ হওয়া ফেনী পাইলট হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেমের স্ত্রী হাসিনা আক্তার জানায়, বিষয়টা নিয়ে সৈাদি সরকার ও বাংলাদেশ সরকার চরম উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। কর্তপক্ষ ইচ্ছে করলে একটা নিশ্চিত সংবাদ তারা পায় । নিহতরা সবাই অর্থনৈতিক দিকথেকে সচ্ছল ছিলো ।নিজ অর্থ খরছ করে তারা মক্কায় হজ পালন করতে যায়।
এ ব্যাপেের জানতে চাইলে ফেনী জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির খন্দকার জানান, আমরা শুনেছি মিনার পদদলতি হওয়ার ঘটনায় ফেনীর চারজন নিহত ও পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছে। আমরা আমাদের বৈদেশিক শাখার মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। সঠিক সংবাদ পেলে আমরা তা নিশ্চিত করবো।
জেলা প্রশাসক হুশায়ুন কবির খন্দকার নিহত ও নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিরে পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করেছেন।
