সৌদি আরবের মিনায় ‘শয়তান স্তম্ভে’ পাথর ছুড়তে গিয়ে পদদলিত হয়ে নিহত হাজি শহিদুল ইসলাম বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সোমবার সকালে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার তৃতীয় ফেজে তার বাড়িতে গিয়ে হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য দেখা যায়।
বাড়িতে তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে আছেন। শহিদুল ইসলাম সোনাডাঙ্গা সানিয়াতুল বিদা জামে মসজিদের ইমাম ও বয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইসলাম ধর্মের শিক্ষক ছিলেন।
তার মৃত্যুর সংবাদে সোনাডাঙ্গাসহ নগরীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রবিবার বিকালে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনরা তার বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানাচ্ছেন। মাওলানা শহীদুলের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ সৌদি আরবে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার বড় ছেলে বেলাল হোসাইন ও জামাই নাজমুল হাসান।
২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আরাফাতের ময়দান থেকে মেয়ে ও জামাইকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি ভাল আছি, তোমরা আমার জন্য দোয়া কর, আমি তোমাদের জন্য দোয়া করবো।' এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
এদিকে রবিবার বাদ আসর সানিয়াতুল বিদা জামে মসজিদের সামনে মরহুমের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনি ও প্যানেল মেয়রসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিনার বড় জামারাতে ‘শয়তান স্তম্ভে’ পাথর ছোড়ার সময় পদদলিত হয়ে নিহত হন ৭৬৯ জন হাজি। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯৩৪ জন। এরপর থেকে খোঁজ মিলছে না খুলনা মহানগরীর দৌলতপুরের আরেক হজযাত্রী গোলাম কিবরিয়া পিপুর (৩৭)। ওই দুর্ঘটনার পর থেকে সৌদি আরবে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। রবিবার পিপুরের চাচা খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সাবেক কাউন্সিলর শেখ রুহুল আমিন সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।
