নাটোরের লালপুরে মুর্শিদা বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে কলসনগর মহাজেরপাড়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মুর্শিদার বাবা আলতাব হোসেনের দাবি যৌতুক না পেয়ে তার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যার পর পুকুরে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের চাচা শ্বশুর পিয়ারুল ইসলামকে (৫৫) আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ বছর আগে কলসনগর মহাজেরপাড়া গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে শাহিনুর রহমানের (২৮) এর সঙ্গে মহেষপুর গ্রামের আলতাব হোসেনের মেয়ে মুর্শিদার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর নির্যাতন করত। ঈদের কয়েকদিন আগে মুর্শিদা তার বাবাকে ফোন করে জামাই শাহিনুরকে এক লক্ষ টাকা দিতে বলেন। টাকা না পেয়ে রবিবার শাহিনুর মুর্শিদাকে মারপিট করেন। ওই দিন বিকালে লোকজন শাহিনুরের বাড়ির পাশের পুকুরে মুর্শিদার লাশ দেখতে পায়। শাহিনুরের চাচা পিয়ারুল ইসলাম মোবাইল ফোনে মুর্শিদার মৃত্যুর খবর তার ভাইকে জানান। তারা ঘটনাস্থলে পৌছে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ রাতে লাশ উদ্ধার করে। সোমবার লাশ ময়না তদন্তের জন্য নাটোর মর্গে পাঠানো হয়।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হাই তালুকদার জানান, নিহতের মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পানিতে ডুবে না নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা লাশের ময়না তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ব্যাপারে নিহতের বাবা আলতাব হোসেন মেয়ের স্বামী শাহিনুরসহ ৬ জনের নামে লালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
