পূর্ব শক্রতার জের, আধিপত্য বিস্তার ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। বুধবার সকালে উপজেলার বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বারদী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বারদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক এবং ইউপি সদস্য ও সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য কামাল হোসেন আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নুনেরটেক গ্রামে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে কামাল হোসেন তার সমর্থকদের নিয়ে নুনেরটেক এলাকায় সমাবেশ করেন। এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে কামাল হোসেন সমর্থক বর্তমান ইউপি সদস্য জিলানী ও জহিরুল হক সমর্থক জাকারিয়ার মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাক-বিতন্ডা হয়। এরই জের ধরে বুধবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র টেঁটা, বল্লম, রামদা, লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এ সময় উভয়পক্ষের বাসেদ, আক্কাস আলী, আব্দুল করিম, রেজাক, আমির আলী, রফিক, রহমত আলী, সামসুদ্দিন, আব্দুল মান্নান, ফিরোজা বে্গম, খালেক, ইউসুফ, কবির হোসেন, জুয়েল, মাজেদা বেগম, ইউসুফ, কবির হোসেন, জাহেদা, আক্কাস আলী, মুজিবুর রহমান, রাজিব, খালেক, খাঁন বাহাদুর, হামিদ আলী, রাসেল, সনিয়া, আব্দুল হক, ডালিম, শহিদুল্লাহ, নবী হোসেন, দিপক, সানাউল্লাহসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কবির হোসেন, জুয়েল, আক্কাস আলী, মাজেদা বেগম ও বাসেদকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে উভয়পক্ষের জাকারিয়া, আব্দুল হক, ফজলুল হক, ইসমাইল, ফারুক, জয়নাল, নবী হোসেন, রূপ মিয়া, শুক্কুর আলী, মনির হোসেন, মজিবুর, আসকর আলী, জিলানী মেম্বার, দেলোয়ার, রওশন আলী, কাদির মেম্বার, রফিক মিয়া, সোলায়মান, নুরু মিয়া, স্বপন, শাহ আলম, মজিদ, মতিন ও লাল মিয়ার বাড়িঘর ও বাজারের দোকানপাটে ব্যাপক ভাচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
এ ব্যাপারে বারদী ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন সমর্থক আব্দুল কাদির জিলানী জানান, মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে প্রতিবাদ করায় জাকারিয়ার লোকজন অতর্কিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর ও লুট করা হয়।
অন্যদিকে চেয়ারম্যান জহিরুল হক সমর্থক জাকারিয়া জানান, চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেনের সমর্থকরা বিএনপির লোক। তারা কামালের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় সভা সমাবেশ করে আওয়ামীলীগের লোকজনকে হেয় ভাবে কথাবার্তা বলে। এরই প্রতিবাদ করায় সকালে অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ও দোকান পাট ভাংচুর করে লুটপাট চালায়।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছের ভূঁঞা জানান, সংঘর্ষের পর নুনেরটেক গ্রাম পরিদর্শন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সোনারগাঁও থানার ওসি মো. মঞ্জুর কাদের জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
