প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য ঢাকার বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সড়কে মানুষের ঢল নেমেছে। শনিবার সকাল থেকেই ১৪ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ সড়কগুলোতে ভিড় জমান।
শনিবার দুপুর দেড়টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা এর আগে থেকেই বিভিন্ন ফেস্টুন, ব্যানার, পোস্টারসহ ঢাক-ঢোল নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জড়ো হন।
জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের দেয়া ‘আইসিটি অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ার পর তাকে এই সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্য্ন্ত বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতা-কর্মী, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, সংস্কৃতি কর্মী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, নারী সংগঠন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারাসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ বিভিন্ন স্থানে সমবেত হন।
এর আগে জনগণের জন্য বিশাল এই অর্জনে ১৪ দল থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়।
প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে সুশৃঙ্খল করতে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত ৮টি রুটে বিভক্ত করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে ১৪ দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এসব রুটে দাঁড়িয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এর মধ্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, জাহিদ আহসান রাসেল ও ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার নেতৃত্বে বিমানবন্দর থেকে খিলক্ষেত; রাশেদ খান মেনন, একেএম রহমত উল্লাহ ও সাবের হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে খিলক্ষেত থেকে কুড়িল ফ্লাইওভার; হাবিবুর রহমান মোল্লা ও সানজিদা খানমের নেতৃত্বে কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে হোটেল রেডিসন; কামাল আহমেদ মজুমদারের নেতৃত্বে হোটেল রেডিসন থেকে কাকলী মোড়; কাকলী মোড় থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত দলের সহযোগী সংগঠনগুলো; জাহাঙ্গীর গেট থেকে র্যাংগস ভবন পর্যন্ত জাহাঙ্গীর কবীর নানক, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও হাজী মো. সেলিম এবং র্যাংগস ভবন থেকে গণভবন পর্যন্ত ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের নেতৃত্বে স্ব স্ব এলাকার দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অবস্থান নেন। এ ছাড়া ১৪ দল ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্পটে দাঁড়ান।
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নেয়া এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ ব্যাপক সফলতা অর্জন করার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীকে এই দু’টি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগদান শেষে শনিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে যাত্রাবিরতির পর দুপুর দেড়টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
